• মার্কিন রক্তচক্ষু উপেক্ষা, রাষ্ট্রসংঘে ইরানের পক্ষেই ভোট দিল ভারত, দিল্লিকে ধন্যবাদ তেহরানের
    বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: ইরানের উপর ক্রমেই চাপ বাড়াচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা। এই অবস্থায় তেহরানের পাশে থাকার বার্তা ভারতের। চরম অর্থনৈতিক সংকট, দেশীয় মুদ্রার দামে পতন, কঠোর হিজাব আইন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান চেয়ে পথে নেমেছে ইরানের যুবসমাজ। সেই বিক্ষোভকে কঠোর হাতে দমনের অভিযোগ উঠেছে খামেনেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্ত চেয়ে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে প্রস্তাবনা পেশ করে বেশ কয়েকটি দেশ। সেই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ভারত। আরও ছটি দেশ এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। এই দেশগুলি হল-পাকিস্তান, চীন, কিউবা, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক ও ভিয়েতনাম। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ব্রিটেন, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, কলম্বিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্রের মতো ২৫টি দেশ। তবে কুয়েত, মিশর, ব্রাজিল, কাতারের মতো ১৪টি দেশ ভোটদানে থেকে বিরত ছিল। অধিক সংখ্যক ভোট পক্ষে পড়ায় প্রস্তাব পাশ হতে অসুবিধা হয়নি।চলতি ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এব্যাপারে ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফতেলি। এক্স হ্যান্ডলে ফতেলি লিখেছেন, ‘অনৈতিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রস্তাবনার বিপক্ষে ভারত দৃঢ়ভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থান ন্যায় ও ইরানের জাতীয় ঐক্যের প্রতি ভারতের দায়বদ্ধতাকেই প্রতিষ্ঠিত করেছে।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রসংঘে নির্দিষ্ট কোনো দেশের বির‌ুদ্ধে ভোটাভুটি হলে দিল্লি বরাবরই বিরোধী অবস্থান নিয়েছে। ভারত সবসময়ই কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অপর কোনো সংগঠনের নাক গলানোর বিরোধী। সেই দিক থেকে এবারের দিল্লির অবস্থান নতুন কিছু নয়। তবে ইরান এখন আমেরিকার চক্ষুশ‌ূল। ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন ট্রাম্প। এই অবস্থায় ইরানের পক্ষ নেওয়ার অর্থ আমেরিকার বিষ নজরে পড়া। সেই ঝুঁকিটাই এবার বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ২০২২ সালেও ইরানের বিরুদ্ধে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গড়া নিয়ে ভোটাভুটি হয়েছিল। সেবার সরাসরি বিরোধিতা না করে ভোটদানে ভারত অনুপস্থিত ছিল।অনেকেই বলছেন, চাবাহর বন্দর নিয়ে ভারত এখনও আশা ছাড়েনি। চাবাহরের মাধ্যমেই আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার দেশগ‌ুলির সঙ্গে বাণিজ্য করে থাকে ভারত। তাই মার্কিন হুমকির ঝুঁকি সত্ত্বেও ইরানের পাশে দাঁড়াল দিল্লি। ২০১৮ সালে চাবাহর নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আমেরিকা। ভারতকে সেই নিষেধাজ্ঞা থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ছাড় দিয়েছে আমেরিকা। গত মাসে দিল্লি জানিয়েছে, চাবাহরের ছাড়ের মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে দিল্লি।
  • Link to this news (বর্তমান)