নয়াদিল্লি: ‘বরফ পড়া’ দেখতে গোটা দেশ থেকে পর্যটকরা ছুটে যান মানালিতে। শীতের শুরুতে এবার সেভাবে তুষারপাত হয়নি হিমাচলের অন্যতম এই পর্যটনকেন্দ্রে। কিন্তু, গত কয়েক দিনের ‘স্নো-ফল’ সেই ঘাটতি মিটিয়ে দিয়েছে। আর সেই খবর পেয়ে দলে দলে পর্যটকরা ছুটে গিয়েছেন মানালিতে। কিন্তু, প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় বাড়তি তুষারপাতের জেরে বিপর্যস্ত শৈলশহরের জনজীবন। ব্যাহত যান চলাচলও। বরফ পড়ে রাস্তা আটকে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট। কোঠি থেকে মানালি পর্যন্ত দীর্ঘ আট কিলোমিটার রাস্তায় সার দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে গাড়ি। এর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস। জানা যাচ্ছে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণে ২৬ থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ব্যাপক তুষারপাত ও বৃষ্টি হবে। এই পূর্বাভাসের পরেই সতর্কতা জারি করেছে হিমাচল প্রদেশ সরকার। কাংরা, মান্ডি, সোলান, উনা, বিলাসপুর, হামিরপুর ও সিরমোউরে হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে।লাগাতার তুষারপাতের কারণে মানালিতে আটকে পড়েছেন পর্যটকরা। গোটা শহরে উপচে পড়ছে ভিড়। কোনো হোটেলের একটিও ফাঁকা ঘর নেই। অনেকেই গাড়ি-ট্রাভেলারে রাত কাটাচ্ছেন। তার মধ্যে আবহাওয়ার এই পরিস্থিতির কারণে বহু পর্যটক কুলু, কুফরিতে চলে যাচ্ছেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তুষারপাতের জেরে রাজ্যের সব মিলিয়ে প্রায় ৬৮৫টি রাস্তা বন্ধ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লাহুল-স্পিতি। সেখানে ২৯২টি রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। চাম্বা, মান্ডি ও কুলুতে যথাক্রমে ১৩২, ১২৬ ও ৭৯টি সড়কও তুষারপাতের জেরে বন্ধ। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই যানজট শুরু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় কেটে গেলেও গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। ফলে বহু পর্যটক গাড়ির মধ্যেই আটকে রয়েছেন। বরফের মোটা চাদরে ঢেকে গিয়েছে হিন্দুস্তান-টিবেট রোড। যার জেরে সিমলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ঢাল্লিতেও গাড়ির দীর্ঘ লাইন। তুষারপাতের জেরে সমগ্র কিন্নর জেলা ও সিমলা জেলার নরখান্ডা, জুব্বাল, কোটখাই, খুমারসিনের মতো একাধিক শহর কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।হিমাচলের বেশ কিছু ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তার কোনোটিতে দেখা যাচ্ছে, বরফে ঢাকা পড়েছে একের পর এক গাড়ি। কোথাও আবার তুষারের জেরে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় একটি গাড়ি, অন্যটিকে ধাক্কা মারছে। বরফ নিয়ে পর্যটকদের খেলার ভিডিয়োও ভাইরাল। মানালিজুড়ে তীব্র যানজটের জন্য পর্যটকদের একাংশের অত্যুৎসাহকেই দুষছেন নেটিজেনরা। ভিনিত কুমার নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, তুষারপাতের পূর্বাভাস ছিলই। তার পরেও দলে দলে মানুষ সপ্তাহের শেষে ভিড় জমিয়েছেন। গাড়ির ভিড়ে এগোনো যাচ্ছে না। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে। তার মধ্যেই অনেককে গাড়িতে রাত কাটাতে হচ্ছে।