টালিগঞ্জে জন্ম, প্রয়াত বিখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক মার্ক টুলি, শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর
বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
নয়াদিল্লি: ৭ রিজেন্ট পার্ক, টালিগঞ্জ। একটা বড়ো দু’তলা বাংলো। তখনও দেশ স্বাধীন হয়নি। ১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর সেখানেই জন্মেছিলেন মার্ক টুলি। একে ব্রিটিশ। তার উপর ধনী পরিবারের সন্তান। তাই পাড়ার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে মেলামেশার কোনও সুযোগ ছিল না টুলির। তবে নিয়তি বোধহয় অন্যকিছু লিখে রেখেছিল। এই ছেলেই বড় হয়ে গোটা বিশ্বকে ভারতের গল্প বলতে শুরু করলেন। ভারতের সমাজ,সংস্কৃতি, রাজনীতি, জীবনযাপন, ধর্ম, খাদ্যাভাস সমস্ত কিছু ফুটে উঠল তাঁর একের পর এক লেখায়। সারাজীবন কাটিয়ে দিলেন ভারতের মাটিতেই। আর ভারতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। রবিবার দিল্লির এক বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হল প্রখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক মার্ক টুলির। বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দশকের পর দশক ধরে বিবিসি’র দিল্লির ব্যুরো চিফ হিসাবে কাজ করেছেন টুলি। সাংবাদিক হিসেবে গোটা কর্মজীবনে ভারতের একের পর এক ঘটনা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি। দীর্ঘ কেরিয়ারে ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, ইন্দিরা গান্ধীর আমলে জরুরি অবস্থা, অপারেশন ব্লু স্টার, ইন্দিরা হত্যা, রাজীব গান্ধী হত্যা, ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংস সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার খবর করেছেন তিনি।‘দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি, মাগর থোড়া আংরেজি ভি’। বাবার ৯০তম জন্মদিনে এমনই লিখেছিলেন ছেলে স্যাম টুলি। একটি বাক্য দিয়েই মানুষটিকে চেনা যায়। এহেন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে তাঁর জীবনের নানা দিক উঠে এসেছে বিশিষ্টদের শোকবার্তায়। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মু্খ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভারত ও ভারতীয়দের সঙ্গে মার্ক টুলির আত্মিক যোগাযোগের বিষয়টি তাঁর লেখা ও কাজে প্রতিফলিত হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা, ‘বিখ্যাত সাংবাদিক মার্ক টুলির প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। উনি ভারতকে ভালোবাসতেন। আমরা তাঁকে আমাদেরই একজন হিসেবে দেখি। তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানাই।’মার্ক টুলির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও বর্ষীয়ান সাংবাদিক সতীশ জ্যাকব জানিয়েছেন, এদিন বিকেলে সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে মারা যান টুলি। বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। গত ২১ জানুয়ারি তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়। কলকাতায় বেড়ে উঠলেও পরের দিকে দাার্জিলিংয়ের এক বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনা করেন টুলি। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে পাড়ি দেন। কিন্তু বিবিসির প্রতিনিধি হয়ে ফের ভারতেই ফিরে আসেন। দ্য হার্ট অব ইন্ডিয়া সহ একাধিক বইয়ের রচয়িতা ছিলেন টুলি। ২০০২ সালে তাঁকে নাইটহুড দেওয়া হয়। ২০০৫ সালে তাঁকে পদ্মভূষণে সম্মানিত করা হয়। ফাইল চিত্র