• ইডি-আয়কর জুড়ে দেওয়ার প্ল্যান কেন্দ্রের!
    বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: দু’টিই অর্থমন্ত্রকের অধীন। ‘হানা’ দিয়ে বা ‘রেইড’ করেই প্রসিদ্ধ দু’টি দপ্তর। একটি মূলত কাঁপুনি ধরায় আম জনতা তথা ব্যবসায়ীদের অন্দরে, অন্যটি বিরোধী রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের। একটি আয়কর দপ্তর, অন্যটি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কিন্তু হঠাৎ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে একটি প্রশ্নটি আরও একবার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে দিল্লির দরবারে। আর তা হল, দু’টি দপ্তরকে কি জুড়ে দেওয়ার প্ল্যান চলছে মোদি সরকারের অন্দরে? না হলে ধীরে ধীরে আয়কর দপ্তরের গুরুত্ব কমিয়ে কেন শক্তিশালী করা হচ্ছে ইডিকে?আচমকা ইডির সদরে আয়কর দপ্তর থেকে ব্যাপক হারে কর্মীর ট্রান্সফার হয়েছে। দু’টিকে সংযুক্ত করার এটিই কি প্রথম ধাপ? এই প্রশ্নে গুঞ্জন শুরু হয়েছে দুই দপ্তরের অন্দরে। এত বিপুল হারে আয়কর দপ্তর থেকে কর্মী আনার ঘটনা ইডিতে এর আগে ঘটেনি। পশ্চিমবঙ্গ সহ বিজেপি বিরোধী রাজ্যে ভোটের আগে ‘হানা’ বাড়তে পারে বলেই খবর। রেইড হলেই বাড়বে বিতর্ক। হবে মামলাও। তাই শুরু হয়েছে বাড়তি আইনি পরামর্শদাতা নিয়োগও। আয়কর দপ্তরের কাজ হল, সাধারণত সন্দেহজনক সম্পত্তি, আয়ব্যয়ের হিসাবের গরমিল নিয়ে তদন্ত করা। অন্যদিকে, ইডির কাজ সাধারণত পিএমএলএ (প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট) এবং ফেমা’কে (ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট) সামনে রেখে তদন্ত, তল্লাশি। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে ইদানীং আয়কর দপ্তরের হানার তুলনায় ইডি’র রেইড লাফিয়ে বেড়েছে। এছাড়াও যেখানে আর্থিক দুর্নীতির বিষয়ে সিবিআই তদন্ত, সেখানেই যুক্ত হচ্ছে ইডি। অর্থাৎ গুরুত্ব বাড়ছে।অত্যন্ত বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, আচমকাই নয়াদিল্লিতে ইডির সদর দপ্তর প্রবর্তন ভবনে আয়কর দপ্তরের ৫০-এরও বেশি কর্মীকে ডেপুটেশনে আনা হয়েছে। আমলা থেকে ড্রাইভার, প্রত্যেকে। ইডিতে সাধারণত আইপিএস এবং আইএএস এবং আইআরএস আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া ইডির নিজস্ব কর্মীও থাকেন। প্রায় আড়াই হাজার কর্মী নিয়ে চলে ইডি। তারপরও এই কর্মী সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। তবে কি আগামী দিনে আরও বেশি করে রাজ্যে রাজ্যে তল্লাশি, হানা হবে? আর একটা সমীকরণ হল, আয়কর দপ্তরের কর্মীরা স্বাভাবিক অঙ্কেই আর্থিক অনিয়ম ও রেইডের ব্যাপারে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাঁদের নিয়ে আসার অর্থ ইডির শক্তিবৃদ্ধি। যেখানে ইডির সাফল্যের ‘রেকর্ড’ অত্যন্ত দুর্বল, সেই পরিস্থিতিতে যুগ যুগ ধরে ‘সফল’ দপ্তরকে কাজে লাগানোটা রাজনৈতিক ‘চাল’ বলেই চর্চা দিল্লির দরবারে। সরকারি তথ্যই বলছে, গত ২০১৯-২০২৪, পাঁচ বছরে ইডির ৯১১টি মামলায় মাত্র ৪২টিতে সাজা হয়েছে। ২০১৫-২৫, এক দশকে ১৯৩ জন নেতানেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হলেও মাত্র দু’জন দোষী সাব্যস্ত। ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মন্ত্রী হরিনারায়ণ রাই এবং আনস এক্কা। তাহলে কি ‘কনভিকশন’ হার বাড়াতে এবার ভরসা আয়কর দপ্তর? নরেন্দ্র মোদি নতুন কিছু করতে ভালোবাসেন। বরং বলা ভালো, পুরানো কিছুকে নতুন নাম এবং মোড়ক দিতে। হয়তো তারই নয়া সংযোজন এই দুই দপ্তরের সংযুক্তি। নতুন ভারতে।
  • Link to this news (বর্তমান)