মৃত্যুঞ্জয় কর্মকার, হবিবপুর: দীর্ঘ আন্দোলন, বিক্ষোভের পরেও টাঙ্গন নদীতে সেতু না পেয়ে হতাশ বাসিন্দারা। অবশেষে নিজেরাই চাঁদা তুলে সাঁকো নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন তারা। ঘটনাটি বামনগোলা ব্লকের নালাগোলার কন্যাদিঘি ও মাথামোড়া এলাকার। ২৬ জানুয়ারি কন্যাদিঘিতে রাধাকৃষ্ণের মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে চাঁদা সংগ্রহের কাজ শুরু করতে চলেছেন বাসিন্দারা। শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানিয়েছেন।টাঙ্গন নদীর এক প্রান্তে গজোল ব্লকের চাকনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাথামোড়া ও অপর প্রান্তে বামনগোলা ব্লকের মদনবতী গ্রাম পঞ্চায়েতের কন্যাদিঘি গ্রাম অবস্থিত। মাথামোড়া থেকে গাজোলের দূরত্ব প্রায় ৪৫ কিমি। সেখানে যাতায়াতের জন্য সবসময় পাওয়া যায় না যানবাহন। নদী পার হতে পারলে নালাগোলার দূরত্ব প্রায় তিন কিমি। যেখানে হাট, বাজার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছু সহজেই পাওয়া যায়। চাকনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ১৭টি বুথ রয়েছে। তারমধ্যে ১৩টি বুথের প্রায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনে টাঙ্গন নদী পার হয়ে নালাগোলায যাতায়াত করে থাকেন। সেক্ষেত্রে সারা বছর ভরসা বাঁশের সাঁকো ও বর্ষায় নৌকা। সেই কারণে দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গন নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি করে আসছেন বাসিন্দারা। ইতিমধ্যে গ্রামবাসীদের নিয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরে সেতু নির্মাণের বিষয়টি একাধিকবার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে দাবি তাঁদের। এলাকার বিধায়ক, সাংসদ, জেলা পরিষদ সদস্যদের বলেও মেলেনি সমাধান সূত্র।মাথামোড়া এলাকার বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ বালার অভিযোগ, গ্রামের রোগীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়তে হয়। সময়ে পৌঁছতে না পারায় পথেই অনেকের মৃত্যু হয়। সেতুর বিষয়ে প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না দেখে নিজেরাই চাঁদা তুলে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিছুটা চাঁদা সংগ্রহের পর জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করে সেতু নির্মাণের অনুমতি নেব।মালদহ জেলা পরিষদের স্থানীয় সদস্য সাগরিকা সরকার বলেন, ওই এলাকায় সেতুর দাবি ছিল। বাসিন্দারা চাঁদা তুলে সাঁকো নির্মাণ করার কথা জানি না। খতিয়ে দেখে তাঁদের সাহায্য করা হবে।