প্রাকৃতিক দুর্যোগে চাপা পড়েছে ঘাস, খাদ্যের খোঁজে গ্রামে হানা হাতির
বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রাকৃতিক দুর্যোগে তোর্সা নদীর ডলোমাইট মিশ্রিত পলিতে ঢাকা পড়েছিল জলদাপাড়ার তৃণভূমি। তখনই বিভিন্ন মহল আশঙ্কা করেছিল শুখা মরশুমে জাতীয় উদ্যানের বন্যপ্রাণীদের মধ্যে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে একরাতে একলপ্তে ১৮টি হাতির একটি পাল জাতীয় উদ্যান থেকে ফালাকাটা হয়ে ৩৫ কিমি দূরে কোচবিহারের মাথাভাঙার দরিবসে চলে যাওয়ার ঘটনায় সেই আশংকাই এবার সত্যি বলে মনে করা হচ্ছে।অক্টোবরের দুর্যোগের পর শীতকালীন বৃষ্টি সেভাবে হয়নি। ফলে জাতীয় উদ্যানে নতুন তৃণভূমি তৈরি হতে একটু সময় লাগছে। তারই মধ্যে একলপ্তে ১৮টি হাতির দল জঙ্গল ছেড়ে পড়শি জেলায় চলে যাওয়ার এই ধরনের প্রবণতা নাড়িয়ে দিয়েছে বনদপ্তরকেও। তাই হাতিদের এই প্রবণতা রুখতে বনদপ্তর এবার জাতীয় উদ্যানের জঙ্গলে থাকা ৫০টি অ্যান্টি পোচিং ওয়াচ টাওয়ারে নজরদারিতে থাকে কর্মীদের ওয়াকিটকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেওয়া হবে অত্যাধুনিক গ্লোবাল পজিশনিং ডিভাইসও। যাতে হাতির দলের জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়মুখী হওয়ার প্রবণতা সঙ্গে সঙ্গে রুখে দিতে পারে তাঁরা। তারজন্য এই আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে এবার জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ।জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও প্রবীণ কাসোয়ান বলেন, হাতির দলের লোকালয়ে যাওয়ার প্রবণতা রুখতে আমাদের আরও বেশি করে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিতে হচ্ছে। সেই জন্যই জাতীয় উদ্যানের ৫০টি অ্যান্টি পোচিং ওয়াচ টাওয়ারে ওয়াকিটকি দেওয়া হবে। পাশাপাশি অ্যান্টি পোচিং ওয়াচ টাওয়ারগুলিতে চালু করা হবে জিপিএস সিস্টেমও। ২০২৫ সালের অক্টোবরের দুর্যোগের সময় তোর্সা নদী দিয়ে জাতীয় উদ্যানের ১২টি গন্ডার ভেসে গিয়ে কোচবিহারের রসমতীর জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছিল। পরে বনদপ্তর গন্ডারগুলিকে সফলভাবে জাতীয় উদ্যানে ফেরায়। বনদপ্তরের পর্যবেক্ষণ, আলু ও বেগুন খেত সাবাড় করতেই হাতিরা দলবেঁধে লোকালয়মুখী হচ্ছে। এই প্রবণতা রুখতেই এবার আধুনিক প্রযুক্তির দিকে বেশি করে ঝুঁকছে বনদপ্তর। তবে বনদপ্তরের আশা বৃষ্টি হলেই হাতিদের এই প্রবণতা কমবে। বৃষ্টি হলে জঙ্গলে ঘাসের বৃদ্ধি ঘটবে। ফাইল চিত্র