• প্রশাসনের উদ্যোগ নেই, রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর দিঘি হারাচ্ছে ঐতিহ্য
    বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ: যে দিঘির নামেই এলাকার নামকরণ সেই ফাটাপুকুর দিঘির আজ করুণ দশা। ঐতিহ্যবাহী এই জলাশয়ের বেশিরভাগ অংশই এখন কচুরিপানায় ঢেকে গিয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন কোনও ডাম্পিং গ্রাউন্ড। জলপাইগুড়ির রাজবাড়ি দিঘির মতো এই দিঘির সৌন্দর্যায়নের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে এখনও পর্যন্ত কোনও কাজ শুরুই হয়নি। রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগেও ফাটাপুকুর দিঘি ছিল দর্শনীয়। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসত এই দিঘি দেখতে। কিন্তু গত কয়েক বছরে দিঘির চারপাশে নোংরা আবর্জনার স্তূপ জমেছে। আশপাশের দোকান ও হোটেল থেকে যথেচ্ছভাবে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে দিঘিতে। কচুরিপানা ও আগাছায় ঢেকে গিয়ে জলাশয়ের স্বাভাবিক সৌন্দর্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। দেখভালের কেউ নেই।ফাটাপুকুর দিঘিটি বহু পুরনো। একসময় বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান, উৎসবকে ঘিরে গোটা গ্রামের মানুষ জমায়েত হতে এই পুকুরপাড়ে।ছটপুজোর সময় পুকুরের চারপাশে তৈরি হতো অসংখ্য ছটঘাট। সেই দৃশ্য দেখতে দল বেঁধে মানুষ আসত। কিন্তু এখন দিঘির পাশ দিয়ে গেলে নোংরা আবর্জনার দুর্গন্ধে নাক ঢাকতে হয়। এলাকার মানুষ আরও জানিয়েছে, দিঘির চারপাশের রাস্তাগুলিও বহু বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। একসময় শীতের শুরুতে প্রতিবছরই ফাটাপুকুরে পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা ছিল। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন পাখির সংখ্যাও কমছে।এই বিষয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতা নিতাই মণ্ডল ও দেবাশিস দে বলেন, সরকারি অবহেলাতেই ফাটাপুকুরের এই দুরবস্থা। আগে পুকুরের জমি দখল করে বেশকিছু দোকান গড়ে উঠেছিল। তখন প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সম্প্রতি ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ফাটাপুকুরে আন্ডারপাস নির্মাণের জন্য অবৈধ দোকানগুলি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুকুরপাড়ের হোটেলগুলি এখনও নির্বিচারে আবর্জনা ফেলছে। ফলে গোটা এলাকা কার্যত ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে।অন্যদিকে, রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রূপালি দে বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  আবর্জনায় ভরে গিয়েছে ফাটাপুকুর দিঘি।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)