• ডুয়ার্সের বন্যপ্রাণ, কুলিকের ছবির কোলাজে সাজছে রেল কোচ রেস্তরাঁ
    বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • নির্মাল্য সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ: কুলিক পক্ষীনিবাসের পরিযায়ী পাখি থেকে ডুয়ার্সের বন্যপ্রাণ। সঙ্গে বাউল, শহরাঞ্চলের খণ্ডচিত্র। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে আনুষ্ঠানিক সূচনার আগে হাতে আঁকা এমনি সব কোলাজে সেজে উঠছে রায়গঞ্জ স্টেশনের ঝা চকচকে রেল কোচ রেস্তোরাঁ। এতে আরও বেশি মানুষ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম রায়গঞ্জের পক্ষীনিবাস সম্পর্কে বাংলার উত্তর প্রান্তের বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে পারবেন, বলে মনে করছে এনএফ রেল। বাড়বে পর্যটনও। সম্প্রতি পরোক্ষভাবে আইআরসিটিসির মাধ্যমে নব কলেবরে পুরনো একটি কোচকে ‘রেল কোচ রেস্তোরাঁ’য় রূপান্তর করার উদ্যোগের প্রশংসায় পঞ্চমুখ রায়গঞ্জবাসী সহ বনদপ্তরের রায়গঞ্জ ডিভিশনও। কর্তৃপক্ষের দাবি, কুলিকের পরিযায়ী পাখি, উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণ নিয়ে জেলার মানুষের আবেগ রেলের এই পদক্ষেপে আরও বাড়তি অক্সিজেন পেল। রায়গঞ্জ শহরের মাঝ বরাবর অবস্থান রায়গঞ্জ স্টেশনের। যার অনতিদূরে কুলিক পক্ষীনিবাস। এই পক্ষীনিবাস বিহার লাগোয়া উত্তর দিনাজপুর জেলাকে শুধু দেশ নয়, বিদেশেও বিশেষভাবে চিহ্নিত করে। কুলিকে বছরের বিভিন্ন সময়ে ভিড় জমান পক্ষীপ্রেমীরা। বছরের একটা দীর্ঘ সময় হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পরিযায়ী পাখি সেখানে আসে। মূলত দেখা যায় ওপেন বিল স্টর্ক, গ্লসি আইবিশ, নাইট হেরোন, ইগ্রেট, কর্মোরান্ট প্রজাতির পরিযায়ীদের। পরিলক্ষিত হয় পাখিদের জীবনচক্র। যাকে রক্ষা করতে বনদপ্তরেরও উদ্যোগের শেষ নেই। পক্ষীকুলকে রক্ষা করতে বছরভর ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে বনদপ্তর। পরিযায়ীদের খাবারের চাহিদা মেটাতে শামুক, গেরি, গুগলি, জ্যান্ত মাছ, সরীসৃপের যোগান দেয় বনদপ্তর। পাশাপাশি চোরাশিকার রুখতেও উদ্যোগ নেয়। আবার শুধু পক্ষীনিবাস নয় উত্তরবঙ্গের হাতি, বাঘ, লোকসঙ্গীতের বাহক বাউল, শহরাঞ্চলের খণ্ডচিত্রের মাধ্যমে রেল কোচ রেস্তোরাঁকে বাইরে থেকে সুন্দর করেছে। রেস্তোরাঁর ভিতরের অন্দরসজ্জা বিলাসবহুল যে কোনও রেস্তোরাঁকে হার মানাবে। একসঙ্গে ৭০ জন বসে খাওয়াদাওয়া করতে পারবে নতুন এই রেস্তোরাঁয়।আইআরসিটিসির পক্ষ থেকে নিযুক্ত ঠিকাদার সংস্থার পক্ষে প্রিয়ব্রত দুবে বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে রেল কোচ রেস্তোরাঁ তৈরির পরিকল্পনা নেয়। সেই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে রায়গঞ্জ স্টেশনেও পুরনো কোচকে রেল কোচ রেস্তোরাঁয় রূপান্তরিত করা হচ্ছে। সাজসজ্জার কাজ শেষের পথে। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এই রেস্তোরাঁর সূচনা করবেন এনএফ রেলের আধিকারিকরা। রেস্তোরাঁটিকে আমরা কুলিক পক্ষীনিবাস সহ উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণের ছবির কোলাজে সাজিয়েছি। বিলাসবহুল অন্দরসজ্জাও খাদ্যপ্রেমীদের ভালো লাগবে। এছাড়াও সবুজ গাছ দিয়ে রেস্তোরাঁর আশপাশ সাজানো হবে। এখান থেকে আইআরসিটিসির খাবার সরবরাহ থেকে শুরু করে দক্ষিণভারতীয় খাবার, স্থানীয় অনেক ধরনের খাবার পাওয়া যাবে।বনবিভাগের রায়গঞ্জের ডিএফও ভূপেন বিশ্বকর্মা বলেন, এর আগেও হাওড়া-রাধিকাপুর এক্সপ্রেসকে ‘কুলিক এক্সপ্রেস’ নামকরণ, রায়গঞ্জ স্টেশনেও কুলিক পক্ষীনিবাসের খণ্ডচিত্রে সাজানোর মাধ্যমে কুলিক পক্ষীনিবাসের ব্যাপক প্রচারে সহযোগিতা করেছে রেল। এবার রেল কোচ রেস্তোরাঁয় কুলিক ও বন্যপ্রাণের এই প্রচার রায়গঞ্জ তথা উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে আরও এগিয়ে রাখবে।   নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)