নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ক্ষুদ্র চা চাষের নিরিখে দেশে তৃতীয় স্থান অধিকার করল জলপাইগুড়ি। প্রথম তামিলনাড়ুর নীলগিরি। দ্বিতীয় অসমের ডিব্রুগড়। টি বোর্ডের তরফে সম্প্রতি এই স্বীকৃতি মিলেছে বলে দাবি জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির।বর্তমানে দেশে ফি বছর গড়ে ১৩৫০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫৪ শতাংশ চা ক্ষুদ্র বাগানের। উত্তরবঙ্গে বছরে গড়ে ৪২২ মিলিয়ন কেজি উৎপাদিত চায়ের ৬৪ শতাংশ ছোট বাগানের। যদিও নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে পথ চলতে হচ্ছে ক্ষুদ্র চা চাষিদের। এর মধ্যে অন্যতম কাঁচা পাতার উপযুক্ত দাম না পাওয়া। বটলিফ কর্তৃপক্ষের পাল্টা তোপ, সব বাগানের কাঁচা পাতার গুণমান ভালো নয়। তাছাড়া নিলামে চা বিক্রি না হলে তারা পাতার দাম দেবেন কীভাবে।টি বোর্ডের ডেপুটি ডিরেক্টর কমল বৈশ্যর বক্তব্য, ক্ষুদ্র চা চাষিদের পাশে দাঁড়াতে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। অনুদান, ভর্তুকিতে চা চাষের সহায়ক সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগপোকার আক্রমণ থেকে বাগান বাঁচাতে ক্ষুদ্র চা চাষিদের অনেকে নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ টি বোর্ডের কর্তাদের। এনিয়ে বাগানগুলিকে সজাগ করেছেন তাঁরা।কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তীর দাবি, তামিলনাড়ুতে উৎপাদিত চায়ের ৭২ শতাংশ এবং অসমে উৎপাদিত চায়ের ৪৮ শতাংশ আসে ক্ষুদ্র বাগান থেকে। উত্তরবঙ্গে মোট চায়ের প্রায় ৬৫ শতাংশ ক্ষুদ্র বাগানের। তিনি বলেন, নীলগিরিতে প্রায় ৫৭ হাজার ক্ষুদ্র চা চাষিকে পরিচয়পত্র দিয়েছে টি বোর্ড। ডিব্রুগড়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় ২৮ হাজার ক্ষুদ্র চা চাষিকে। জলপাইগুড়ি জেলার ২১ হাজার ৪৪১ জন ক্ষুদ্র চা চাষি টি বোর্ডের তরফে দেওয়া স্বীকৃতি পেয়েছেন।১৯৯৫ সাল থেকে উত্তরবঙ্গে প্রোজেক্ট গার্ডেন শুরু হয়। ২০০৫ সালের মধ্যে তরাই-ডুয়ার্স সহ উত্তর দিনাজপুর জেলায় প্রচুর ক্ষুদ্র চা বাগান গড়ে ওঠে। ২০০১ সালের হিসেব বলছে, রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ক্ষুদ্র চা বাগানের নো অবজেকশন সার্টিফিকেটের জন্য জমা পড়া আবেদনের সংখ্যা ছিল ৭৩২১টি। যার মধ্যে জলপাইগুড়ি জেলা থেকে আবেদনের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৯০০। বর্তমানে উত্তরবঙ্গে সবমিলিয়ে ক্ষুদ্র চা বাগানের সংখ্যা প্রায় ৪১ হাজার।চলতি বছর রাজ্যে জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে ৩৭৪ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। গত বছর অবশ্য এই সময়কালে রাজ্যে উৎপাদিত চায়ের পরিমাণ ছিল ৩৭৭ মিলিয়ন কেজি। গতবার ৩০ নভেম্বর বাগানে কাঁচা পাতা তোলার শেষদিন ধার্য করেছিল টি বোর্ড। এবার ডিসেম্বরে বাগানে পাতা উঠেছে। কিন্তু উৎপাদিত চায়ের বিক্রি কমেছে। নেমেছে দাম। শিলিগুড়ি নিলামকেন্দ্রে বিক্রি না হওয়া চায়ের পরিমাণ মোটেই কম নয়। চায়ের ক্রেতা না মেলায় ১১ বছর পর জলপাইগুড়িতে টি অকশন সেন্টার চালু হলেও একমাসের মধ্যে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।