• স্বাধীনতা সংগ্রামের বহু ইতিহাসের সাক্ষী মেদিনীপুর সংশোধনাগারের মিউজিয়াম
    বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • রাজদীপ গোস্বামী, মেদিনীপুর: স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ করতে মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে গড়ে উঠেছে মিউজিয়াম। উদ্বোধনের পর থেকেই মিউজিয়ামকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে এখানে ব্যাপক দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশাবাদী সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ।প্রসঙ্গত, ব্রিটিশ আমলে গড়ে ওঠা মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৮৬০ সালে এই কারাগারের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৮৬৮ সালে কারাগারের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা হলেও ১৮৭২ সালে এটি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের স্বীকৃতি পায়। সেই সময় দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারাগার হিসেবে বিশেষ পরিচিত অর্জন করেছে মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার।এই সংশোধনাগারের ইতিহাসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে। এখানেই প্রথম ফাঁসি দেওয়া হয় স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রদ্যোতকুমার ভট্টাচার্যকে। ১৯৩৩ সালে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ডগলাস হত্যাকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়। একই বছর ২৫ অক্টোবর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বার্জকে খেলার মাঠে ঢুকে হত্যার অভিযোগে ব্রজকিশোর চক্রবর্তী ও বিপ্লবী রামকৃষ্ণ রায়কেও এই সংশোধনাগারে ফাঁসি দেওয়া হয়। পরদিন, অর্থাৎ ২৬ অক্টোবর, একই অভিযোগে ফাঁসি দেওয়া হয় নির্মলজীবন ঘোষকে। এই সকল শহিদ স্বাধীনতা সংগ্রামীর আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাসই মিউজিয়ামের মূল আকর্ষণ। সংশোধনাগারের এক আধিকারিক জানান, সাধারণ মানুষ ও পড়ুয়ারা যাতে মেদিনীপুর সংশোধনাগারের ইতিহাস জানতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই মিউজিয়াম তৈরি করা হয়েছে। এখানে শুধু অপরাধের ইতিহাস নয়, বরং অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীর সংগ্রামের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। ২৬ জানুয়ারি ছুটির দিনে প্রচুর সংখ্যক মানুষ আসবেন।মেদিনীপুরের নাড়াজোল রাজ কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক মঙ্গল নায়েক বলেন, এই মিউজিয়াম ইতিহাসের এক পাঠশালা। এখানে সংরক্ষিত বহু তথ্য ও দলিল গবেষকদের কাছেও অত্যন্ত মূল্যবান। আলিপুর ও আন্দামানের পর মেদিনীপুরে এমন একটি মিউজিয়াম থাকা নিঃসন্দেহে গর্বের।
  • Link to this news (বর্তমান)