• শুধু উপার্জন নয়, মায়ের প্রতি বিশ্বাসেই আসেন ঠাকুরবাহকরা
    বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: পুজো মানেই কৃষ্ণনগরে উৎসবের অন্যরকম আবহ। শহরের অলিগলি জুড়ে আনন্দ, আয়োজন, আর ভক্তির আবহ। কিন্তু সেই আনন্দের পেছনে আছে অগণিত মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম। তাঁদের মধ্যে অন্যতম অদৃশ্য নায়করা হলেন ঠাকুর বাহকরা। শুধু টাকা উপার্জনের লক্ষ্য নয়, বরং দেবীর প্রতি গভীর ভালবাসা ও বিশ্বাসের টানেই  সুদূর ঘাটেশ্বর, বর্ধমান, সুন্দরবন, মুর্শিদাবাদ থেকে প্রতি বছর কৃষ্ণনগরে ছুটে আসেন লোকগুলো। দীর্ঘ পথ, কষ্টকর যাত্রা, পরিবারের থেকে কয়েকদিন দূরে থাকা-সবকিছু সত্ত্বেও এই যাত্রা যেন তাঁদের কাছে এক অদ্ভুত টান। কোনো দল আসে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে লঞ্চে নদী পেরিয়ে আবার অন্য দলগুলি  বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ থেকে ট্রেন ও বাস ধরে কৃষ্ণনগর পৌঁছান। দীর্ঘ সময়ের এই রাস্তায় তাঁদের চোখে মুখে ক্লান্তি নয়, থাকে  অদ্ভুত আনন্দ।ঠাকুরবাহকদের অনেকেই বছরভর বিভিন্ন পেশায় যুক্ত থাকেন। কেউ মৎস্যজীবী, কেউ দিনমজুর, কেউ বা কৃষিকাজ, অনেকে আবার ভিন রাজ্যে কাজে চলে যান। কিন্তু পুজোর মরশুমে তাঁরা দল বেঁধে কৃষ্ণনগরে চলে যান। ঠাকুর বওয়া তাঁদের কাছে পূণ্যকাজ।কৃষ্ণনগরের বিভিন্ন বারোয়ারিতে সরস্বতী পুজোর বিসর্জনের দিন অর্থাৎ রবিবার সকাল থেকেই ভিড় করেছিলেন এই ঠাকুরবাহকরা। সাং এর বাঁশ বাঁধা থেকে শুরু করে বিসর্জন সবই তাঁরাই করলেন।বেশিরভাগ ঠাকুরবাহকদের কথায়, মা ডাকেন বলেই তাঁরা কৃষ্ণনগর আসেন। মা নিজেই তাঁদের দিয়ে একাজ করাচ্ছেন। তাই সুন্দরবন, ঘাটেশ্বর কিংবা বর্ধমান থেকে কৃষ্ণনগর দূর যতই হোক, ঠাকুর তুলতে যতই পরিশ্রম  হোক না কেন, তাঁরা প্রতিবছরই আসবেন।ঘাটেশ্বর থেকে আসা এক ঠাকুরবাহক আদোস সরোদা বলেন, আমি আজ ৮ -১০ বছর ধরে কৃষ্ণনগর আসছি। পুজোর সময় এখানে ভালো কাজ হয়। তাই বার বার ছুটে আসি। তা ছাড়া ঠাকুর তুলে দিতে খুব ভালো লাগে। একসঙ্গে অনেক জন মিলে মিশে থাকি। মা কে কাঁধে তোলার সুযোগ পাচ্ছি, এটা আমাদের কাছে পরম আনন্দের। আর এক ঠাকুরবাহক শ্যামল নস্করের কথায়, ঠাকুর বহন আমাদের অন্যতম পেশা। তাই কঠিন হলেও সেটা করতে হবে।  প্রতি বছর পুজো তো এখানেই কেটে যায় আমদের। ঠাকুর তুলতে কষ্ট হলেও, আমাদের কাছে সেটি খুব আনন্দেরও। সরস্বতী মা কে কাঁধে নিতে পারা আমাদের কাছে  গর্বের ও ভালোবাসার। আবার কৃষ্ণনগরের স্থানীয় পুজো কমিটির কর্তাদের মতে, এই ঠাকুরবাহকরা না থাকলে পুজোর অনেক আয়োজনই অসম্পূর্ণ থেকে যেত। তাঁদের জন্যই মায়ের মূর্তি সঠিকভাবে স্থাপন হয়। সঠিকভাবে বিসর্জন হয়। তাই এই মানুষগুলির প্রতি পুজোর দিনগুলিতে সবারই কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। মায়ের প্রতি ভালবাসা ও বিশ্বাসের টানেই ঘাটেশ্বর, বর্ধমান থেকে কৃষ্ণনগর ছুটে আসেন সাং এর  ঠাকুর বাহকরা। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)