ভুয়ো চিকিৎসকের কাছে অস্ত্রোপচার, দৃষ্টিশক্তি হারালেন নারায়ণগড়ের বৃদ্ধ
বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর ও সংবাদদাতা বেলদা: পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়িতে ভুয়ো চিকিৎসকের চক্ষু অস্ত্রোপচারে এক বৃদ্ধের দৃষ্টিশক্তি হারানোর অভিযোগ সামনে আসতেই শোরগোল পড়েছে। অভিযোগ, বেসরকারি হাসপাতালে মালিক দিলীপ দাসের হাতে নেই কোনও ডাক্তারি ডিগ্রি বা বৈধ শংসাপত্র! তার ২৫ বছরের অভিজ্ঞতার উপর ভরসায় অস্ত্রোপচার করায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এক বৃদ্ধ। তাঁর নাম সুধীর কোটাল(৬৩)। বাড়ি নারায়ণগড় ব্লকের বৈরামপুর এলাকায়। প্রশ্ন উঠছে, বেসরকারি হাসপাতালের মালিক দিলীপ কীভাবে কোনও ডিগ্রি ছাড়াই অস্ত্রোপচার করল। একইসঙ্গে কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এতদিন ধরে চোখের ভুয়ো হাসপাতাল চলছিল। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানান, অভিযোগ সামনে আসতেই ওই হাসপাতালে যান জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক-৩ সুদীপকুমার মণ্ডল। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে তদন্তের জন্য আমাকে পাঠানো হয়েছে। যা যা দেখার দেখেছি। বেশকিছু নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরে রিপোর্ট জমা দিয়েছি।জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈরামপুরের বাসিন্দা সুধীরবাবুর চোখে সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি চোখের ছানি অস্ত্রোপচারের জন্য কুকাইয়ের ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। সুধীরবাবুর ছেলে সমরেশ কোটালের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালের মালিক দিলীপ মোটা টাকা দাবি করে। চোখের অস্ত্রোপচারের জন্য কোনও চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞকে ডাকা হয়নি। দিলীপ নিজেই অস্ত্রোপচার করে একমাসের ওষুধ লিখে দেয়।কিন্তু, অস্ত্রোপচারের এক মাস পর সুধীরবাবুর দৃষ্টিশক্তি আর ফেরেনি। উল্টে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ছেলে সমরেশবাবু ফের ওই হাসপাতালে গেলে মালিক তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ। নিরুপায় হয়ে পরিবারের সদস্যরা সুধীরবাবুকে অন্য এক চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক স্পষ্ট জানান, ভুল অস্ত্রোপচার ও চরম গাফিলতির কারণেই সুধীরবাবু চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। অভিযুক্ত হাসপাতাল মালিক তথা ভুয়ো চক্ষু চিকিৎসক দিলীপ বলে, আমার ডিগ্রি না থাকলেও ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কোনও গাফিলতি হয়নি। এদিন কেশিয়াড়ির বাসিন্দা চন্দন দাস বলেন, এমন ঘটনা বারবার ঘটলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর থেকে মানুষের বিশ্বাস উঠে যাবে। এই হাসপাতাল অনেক দিন ধরেই চলছে। আগের চেয়ে জেলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ভালো হয়েছে। তবে জেলার বিভিন্নপ্রান্তে থাকা ভুয়ো প্রতিষ্ঠান গুলির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিক প্রশাসন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা ডায়াগনস্টিক ওনারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিশ্বনাথ দাস বলেন, খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। জেলায় অনেক ভুয়ো ডায়াগনস্টিক সেন্টারও রয়েছে। দৃষ্টিশক্তি হারানো সুধীর কোটাল।-নিজস্ব চিত্র