নথি দিতে ছুটির দিনেও খোলা থাকছে ডোমকলের মধুরকুল পঞ্চায়েত অফিস, এসআইআর আতঙ্কে দিশেহারা মানুষ
বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, ডোমকল: নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রচুর ভোটারকে ধরানো হচ্ছে শুনানির নোটিস। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। যার জেরে অনেকেই নথি জোগাড় করতে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে নথি দিতে ছুটির দিনেও অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিল ডোমকলের মধুরকুল পঞ্চায়েত। রবিবারের পাশাপাশি সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবসেও পঞ্চায়েত অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। কমিশনের তরফে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নামে বহু মানুষকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। শুনানিতে কোন নথি লাগবে-তা নিয়ে গ্রামাঞ্চলের বহু মানুষের কাছেই স্পষ্ট ধারণা নেই। সেজন্য নোটিস হাতে পেয়েই অনেকে পঞ্চায়েত অফিসে দৌড়চ্ছেন। মধুরকুলে শনিবার রাতে, এমনকি রবিবার সকালেও বহু ভোটারকে শুনানির নোটিস ধরানো হয়েছে। ভোগান্তি এড়াতে বংশতালিকা, রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট সহ নানা নথি জোগাড় করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন গ্রামবাসীরা। ভোটার তালিকা থেকে নাম যাতে বাদ না পড়ে, সেজন্য বহু মানুষ যার মুখে যে নথির কথা শুনছেন-তাই সংগ্রহে নেমে পড়ছেন।পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মধুরকুল পঞ্চায়েত শনিবারই ঘোষণা করে, সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও রবিবার ও সোমবার পঞ্চায়েত অফিস খোলা থাকবে। রবিবার সকাল থেকেই পঞ্চায়েত অফিসে নথি সংগ্রহে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়।এলাকার বাসিন্দা লুতফর মণ্ডল বলেন, পরিবারের একজনের শুনানির নোটিস এসেছে। হাতে নোটিস ধরিয়ে তিনদিনের মধ্যে শুনানিতে যেতে বলা হয়েছে। এতদিন কোনও নোটিস না পাওয়ায় নথি জোগাড় করিনি। এখন পাড়ার লোকজন বলছে, বংশতালিকা, রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট লাগবে। সেগুলোই জোগাড় করেছি। কমিশন সাধারণ মানুষকে খুবই হয়রান করছে। তবে ছুটির দিনেও পঞ্চায়েত অফিস খোলা রাখায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।মধুরকুল পঞ্চায়েতের প্রধান শামসুজ্জোহা বিশ্বাস বলেন, মানুষ খুবই বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত। তাঁরা নানারকম নথি সংগ্রহে আমাদের কাছে আসছেন। সেসব নথি আদৌ শুনানিতে লাগবে কিনা-তা স্পষ্ট নয়। তবু আমাদের পক্ষে যে সমস্ত নথি দেওয়া সম্ভব-তা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের পঞ্চায়েতের একাধিক বুথে শনিবার রাতে ও রবিবার সকালে শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারই ওই ভোটারদের শুনানিতে যেতে বলা হয়েছে। তাই মানুষের যাতে নথি সংগ্রহে সমস্যা না হয়, সেজন্য ছুটির দিনেও পঞ্চায়েত অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার দুপুর পর্যন্ত আমরা শতাধিক মানুষকে নানা নথি দিয়েছি। বিকেলের পরও অফিসে ভিড় রয়েছে। ছুটির দিনেও নথি সংগ্রহের জন্য পঞ্চায়েত অফিসে সাধারণ মানুষের ভিড় (উপরে)। ছুটির দিনে পঞ্চায়েত থোলা রাখার নোটিস (নীচে)। -নিজস্ব চিত্র