• নওদায় এসআইআর আতঙ্কে এবার মৃত্যু চাষির, শোরগোল
    বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: নওদায় ফের এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু হল এক চাষির। মৃতের নাম তোজাম্মেল শেখ (৫৮)।  ওই ব্যক্তির বাড়ি নওদার ত্রিমোহিনী পশ্চিমপাড়ায়। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল তোজাম্মেল মণ্ডল। বর্তমান ভোটার তালিকায় নাম আছে তোজাম্মেল শেখ। সেই কারণেই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নোটিস আ ওই চাষির কাছে। আর তারপরেই আতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। কয়েক দিন আগে বাড়িতে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানির নোটিস আসে। নোটিস পাওয়ার পর থেকেই তিনি বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলেন।বৃহস্পতিবার ত্রিমোহিনী বাজারে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাঁকে আমতলা গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে পাঠানো হয়। শনিবার দুপুরে সেখানেই মৃত্যু হয় তোজাম্মেলের।   এদিকে, চিকিৎসকরা জানান, তাঁর ব্রেন স্ট্রোক হয়েছিল। মৃতের ছেলে রাজেশ শেখ বলেন, বাড়িতে বাবার ও আমার এস আইআরের নোটিস আসার পর থেকেই বাবা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। কাগজপত্র আমাদের কাছে তেমন নেই। অতিরিক্ত চিন্তার কারণেই বাবাকে এভাবে মরতে হল। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল তোজাম্মেল মণ্ডল। বর্তমান ভোটার তালিকায় নাম আছে তোজাম্মেল শেখ। সেই কারণেই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নোটিস আসে। নওদা ব্লক তৃণমূল সভাপতি সফিউজ্জামান শেখ বলেন, শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রান করছে নির্বাচন কমিশন। এই ধরনের মৃত্যুর জন্য দায়ী কেবল কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশন। আমরা মৃতের পরিবারের পাশে আছি। দলের তরফে মৃত চাষির পরিবারকে সাহায্য করা হবে।  এদিকে, তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, বিজেপির কাজ সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলা। কেন্দ্রের সরকার একের পর এক জনবিরোধী নীতি নিয়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবনের ছন্দকে দুর্বিষহ করে তুলছে। এই একের পর এক মৃত্যুর জন্য দায়ী কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। তাঁদেরই নির্দেশে কমিশনের এসআইআরের উদ্যোগ।তবে বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, ভোটার তালিকায় শুদ্ধিকরণের কাজ করছে কমিশন। এতে আতঙ্কে মৃত্যুর কী আছে? যে কোনও মৃত্যু এসআইআর আতঙ্কে বলে দাগিয়ে দিচ্ছে শাসকদল। যাঁরা দাবি করছেন তাঁরা প্রমাণ করুক যে এসআইআরের কারণেই ওই মৃত্যু।
  • Link to this news (বর্তমান)