নিজস্ব প্রতিনিধি, বীরভূম: রবিবার সিউড়ি বিধানসভার অন্তর্গত রাজনগরের চন্দ্রপুরে বড় জনসভা করল তৃণমূল। এদিনের সভার মূল চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহের একটি মন্তব্য। নিজের বক্তব্যের শেষে অনুব্রত মণ্ডলকে মঞ্চে ডাকার সময় তিনি তাঁকে ‘জেলা সভাপতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বর্তমানে অনুব্রত বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক। কিন্তু ভরা সভায় মন্ত্রীর মুখে তাঁকে পুরনো পদে সম্বোধন করায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। এদিন সিউড়ি-১ ব্লকের সভাপতি সহ অন্যান্য নেতারা অনুব্রতকে একটি বহুমূল্য রুপোর মুকুট উপহার দেন। এদিনের সভায় মূল বক্তা ছিলেন অনুব্রত। মন্ত্রী চন্দ্রনাথবাবু ছাড়াও বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ, জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় সহ অন্যান্য নেতারা ছিলেন। মন্ত্রী চন্দ্রনাথবাবু তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের নারী ক্ষমতায়ন এবং গ্রামীণ উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন।তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নারীদের জন্য বহু প্রকল্প এনেছেন। বীরভূমের চেহারা বদলে গিয়েছে। গ্রামীণ রাস্তার প্রভূত উন্নতি হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রের প্রকল্পের কোনও সুবিধা কি বাংলার মেয়েরা পাচ্ছেন? এরপরই তিনি অনুব্রতকে আহ্বান জানাতে গিয়ে বলেন, আমার পরই আমাদের জেলা সভাপতি বলবেন। মন্ত্রী ঘনিষ্ঠদের দাবি, যেহেতু অনুব্রত জেলযাত্রার আগে বহু বছর জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন, তাই তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে বলে ফেলেছেন। এদিন নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন অনুব্রত। ভিড় দেখে উচ্ছ্বসিত অনুব্রত বলেন, মাঠটা খুবই ছোট হয়ে গিয়েছে। ভিতরে যত মানুষ, তার দ্বিগুণ বাইরে। এরপরই বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, আপনারা ভাবছেন এসআইআর করে নাম বাদ দিয়ে দেবেন? আপনারা নাকি বাংলার ক্ষমতা দখল করবেন! মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। আপনাদের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? নামটা বলুন। বলতে পারবেন না। বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, বিজেপিকে ভোট দিলে অন্ধকার নেমে আসবে। যে আলো দেখছেন তা আর পাবেন না। ২০১১ সালের আগে বাম আমলে রাজনগরের রাস্তার কী অবস্থা ছিল তা সবাই জানে। এখন অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে ‘গুড়-বাতাসা’র প্রবক্তা সাফ জানিয়ে দেন, কেন্দ্রের সরকার কিছুই দেয়নি। না দিয়েছে চাকরি, না দিয়েছে বকেয়া টাকা। সাজানো পশ্চিমবঙ্গকে তিলে তিলে শেষ হতে দেব না।