• লড়াই হবে চোখে চোখ রেখে, হুঙ্কার মীনাক্ষীর
    বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: এসআইআরের নামে প্রকৃত ভোটারদের বাদ দেওয়ার চক্রান্ত, ১০০ দিনের কাজ চালুর দাবি, ডিসিআরের নামে কোটি কোটি টাকা লুটের প্রতিবাদে ও এই রাজ্যে সংশোধিত ওয়াকফ আইন লাগু করতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ তুলে রবিবার বিকেলে রামপুরহাটের কলেজ মাঠে জনসভা করে সিপিএম। সেখানে প্রধান বক্তা ছিলেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, পলিট ব্যুরোর সদস্য রামচন্দ্র ডোম।সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাম না করে অনুব্রত মণ্ডলকে ‘আধাখেচরা বাঘ’ বলে আক্রমণ করেন মীনাক্ষী। তিনি বলেন, গোটা রাজ্যজুড়ে মেহনতি মানুষ জোট বাঁধছে। এবারের লড়াই হবে চোখে চোখ রেখে, সামনাসামনি। এই জেলায় ডিসিআরের নামে অর্থ লুট নিয়েও সোচ্চার হন তিনি। বলেন, ডিসিআরের গেট আজ আছে। লাল ঝাণ্ডা উড়বে, ওই গেটে তালা ঝোলাব আমরা। লুটে খেতে দেব না। বাবার মাল পেয়েছে। বাপের বাপ হয়েছে তৃণমূল। আর বাপের দাদু হয়েছে পুলিশ। তারও বাপ হয়েছে বিজেপি। মাথায় ছাতার পর ছাতা ধরে গোটা বীরভূমের বাচ্চাগুলির ফুসফুসে পাথরের গুড়ো ঢুকবে। খাদানে শ্রমিক মরবে। আর তোমার কলকাতায় বসে বীরভূমের টাকা গুনবে। এটা চলবে না। ওদের পেটে হাত ঢুকিয়ে লুটের টাকা বের করব। তার জন্য তৈরি হচ্ছে বাংলা। তিনি বলেন, ১০০ দিনের কাজে তৃণমূলে দুর্নীতি করেছে। এখানে বেয়াদপি করে বেড়াচ্ছে পিসি ভাইপোর জুটি। আর ওখানে বেয়াদপির সুযোগে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে দিতে চাইছে বিজেপির সরকার।অন্যদিকে, মহম্মদ সেলিম বলেন, যাঁদের ভোটাধিকার আছে, এসআইআরের নামে তাঁদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংবিধান মানছে না নির্বাচন কমিশন। ম্যাপিংয়ে যখন কোনও কিছু খুঁজে পেল না, তখন লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির নামে লক্ষ লক্ষ নোটিস দিচ্ছে। আমরা বলেছি, যাঁরা মারা গিয়েছে, তাঁদের নাম বাতিল করো, যারা জীবিত তাঁদের নিয়ে কেন টানাটানি করছ। যারা ভুয়ো ভোটার, তাদের নাম কাটো। রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ৩৪ বছর আইনের শাসন ছিল। এই গুণ্ডামী, মস্তানি ছিল না। প্রত্যেকটা রক্ত বিন্দুর আমরা শোধ নেব।এদিনের সভায় দলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মী-সমর্থকরা এসেছিলেন। উপস্থিত ছিলেন বাম শরিক দলের নেতৃত্বরাও। যদিও নির্বাচনের প্রাক্কালে সিপিএমের এই সভাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এসআইআরের নামে মানুষের এত হয়রানি চলছে। কই মানুষের পাশে তো তাঁরা দাড়াচ্ছে না। একদিন প্রতিবাদ সভা করলেই হয়ে গেল। আসলে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে উল্টোপাল্টা বকছে।
  • Link to this news (বর্তমান)