• বন্ধ বিদ্যাসাগর সেতু, সরস্বতী বিসর্জনকে ঘিরে তীব্র যানজট
    বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রক্ষণাবেক্ষণ ও কাঠামোগত পরীক্ষার কাজের জন্য রবিবার ভোর ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিদ্যাসাগর সেতুতে সমস্ত যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। গত কয়েক মাস ধরেই প্রতি রবিবার রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য এই সেতু বন্ধ রাখা হচ্ছে। তবে টানা ১৬ ঘণ্টা ব্রিজ বন্ধ থাকার জেরে এদিন হাওড়া শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানজট চরমে ওঠে। সরস্বতী পুজোর বিসর্জন থাকায় সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকটি রাস্তা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ট্রাফিকের চূড়ান্ত অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন যাত্রীরা।গত কয়েক মাস ধরে প্রায় প্রতি রবিবারই বিদ্যাসাগর সেতু বন্ধ রাখা হলেও অন্যান্য রবিবার শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড়সড় প্রভাব পড়ে না। তবে সরস্বতী পুজোর বিসর্জন থাকার জন্য এদিন যানজটের জাঁতাকলে নাজেহাল হতে হয়েছে যাত্রীদের। হাওড়া শহরের দুই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জিটি রোড ও ফোরশোর রোডে দিনভর তীব্র যানজট ছিল। সন্ধ্যার পর তা আরও মারাত্মক আকার নেয়। শিবপুর শ্মশানঘাট ক্রসিং থেকে বার্ন স্ট্যান্ডার্ড মোড় পর্যন্ত যেতে অন্যান্য দিন খুব বেশি হলে ১৫ মিনিট সময় লাগে। এদিন সেই পথ যেতেই প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। সমস্ত যানবাহন হাওড়া ব্রিজের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার ফলে একদিকে বাস, অন্যদিকে ভারী ভারী পণ্যবাহী লরির ভিড়ে ফোরশোর রোডে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। তার ওপর অজস্র ছোটো গাড়ি, বাইক, টোটোর ভিড়ে রীতিমতো গলদঘর্ম দশা হয় সাধারণ যাত্রীদের। তার মধ্যেই দেখা যায়, রামকৃষ্ণপুর ঘাট ক্রসিংয়ের কাছে পরপর তিনটি অ্যাম্বুলেন্স লাগাতার সাইরেন বাজালেও বেরনোর রথ পায়নি। যানজট সামলাতে রীতিমতো নাকানি চোবানি খাচ্ছিলেন কর্তব্যরত ট্রাফিক আধিকারিকরা। একই অবস্থা দেখা গিয়েছে জিটি রোড, বঙ্কিম সেতু, এম জি রোড, আন্দুল রোডে।হাওড়া সিটি পুলিশের দাবি, রামকৃষ্ণপুর ঘাট সহ বেশ কয়েকটি ঘাটে এদিন প্রচুর সংখ্যায় সরস্বতী প্রতিমা বিসর্জন হয়। সে কারণেই সন্ধ্যার পর যানজট আরও বাড়ে। তবে যাত্রীদের ক্ষোভ অন্য। তাঁদের বক্তব্য, হাওড়া শহরে যান চলাচল ডাইভার্ট করার মতো পর্যাপ্ত রাস্তা নেই ঠিকই, কিন্তু ট্রাফিক পুলিশের আরও পরিকল্পনার প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে, বিদ্যাসাগর সেতু বন্ধ থাকায় সকাল থেকেই তীব্র ভোগান্তিতে পড়েন সাঁতরাগাছি স্টেশনে নামা দূরপাল্লার যাত্রীরা। কলকাতার দিকে যেতে ট্যাক্সি ও ক্যাব চালকদের সঙ্গে বাড়তি ভাড়া নিয়ে রীতিমতো বচসায় জড়িয়ে পড়তেও দেখা যায় যাত্রীদের।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)