নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটারের নাম বাদ থেকে বিএলও মৃত্যু! রবিবার, জাতীয় ভোটার দিবসে একের পর এক প্রশ্নবাণে জর্জরিত হল নির্বাচন কমিশন। এদিন ধনধান্য অডিটোরিয়ামে মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের দপ্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। সেখানে রাজ্যের শাসক দল তো বটেই, বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধী দলের প্রশ্নে অস্বস্তিতে পড়তে হয় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে। শুধু তাই নয়, ‘ভালো কাজের’ জন্য বিএলওদের সংবর্ধনা দেওয়ার যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও কার্যত তুলকালাম বেধে যায়। কারণ, পাঁচ শতাধিক বিএলও-কে এর জন্য ডেকে আনা হলেও তিনজনকে সংবর্ধনা ও শংসাপত্র দিয়ে ঘোষণা করা হয়, বাকিদের যে যাঁর জেলা থেকেই শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে। দূরদূরান্ত থেকে আসা বিএলওরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তাহলে আমাদের এত দূরে ডেকে আনার কী দরকার ছিল?’ এনিয়ে কিছুক্ষণ রীতিমতো উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন ঘোষণা করা হয়, এই মঞ্চ থেকেই সবাইকে শংসাপত্র দেওয়া হবে। তাতে ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হয়। তবে এমন একটি অনুষ্ঠানে শতাধিক বিএলওর মৃত্যুর প্রসঙ্গ কেন এল না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। এসআইআরে বিএলওদের ভূমিকার প্রশংসা করছিলেন অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক দিব্যেন্দু দাস। তাঁর বক্তৃতার মাঝে সিপিএমের প্রতিনিধি বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে ১২৬ জন বিএলওর মৃত্যুর খবর আমরা দেখেছি। তাঁদের মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা গেল না?’ তাঁকে সমর্থন জানান তৃণমূল এবং কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাইক তুলে নেন মনোজ আগরওয়াল স্বয়ং। তিনি বলেন, ‘বিএলওদের মৃত্যু নিয়ে আমরা রিপোর্ট চেয়েছিলাম। কোনো রিপোর্ট আসেনি। এমনকি, ময়নাতদন্তের রিপোর্টও পাঠানো হয়নি। সরকারিভাবে জেলাশাসক এবং পুলিশের এই রিপোর্ট দেওয়ার কথা। আইনে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এটা তো আমরা করতে পারি না। আমাদের কোনও ফান্ড নেই।’তৃণমূল এবং কংগ্রেসের প্রতিনিধি পালটা বলেন, ‘ক্ষতিপূরণের কথা বাদ দিন। কাজ করতে গিয়ে তাঁরা মারা গিয়েছেন। তাঁদের জন্য কি এক ফোঁটা চোখের জল ফেলা যেত না? রিপোর্ট আসেনি বলে কি মৃত্যুকে অস্বীকার করা যায়?’ জবাবে সিইও বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ বিষয় নয়। আমাদের রেকর্ডে তা রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ।’ এর পর তিনি আরও বলেন, ‘শুধু এসআইআর নয়, নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন বিএলওরা। তাই বলব, মৃত্যুর তথ্য ডিইও-কে জানান। তিনি আমাদের সেই তথ্য পাঠাবেন।’তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুব্রত বক্সি কিঞ্চিত কটাক্ষের সুরে প্রশ্ন তোলেন, ‘দেড় কোটি নাম বাদ যাবে শুনছি। আর কারও নাম বাদ যাবে না তো?’ সিইও তখন বলেন, ‘এসব রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলা। কমিশনের কেউ কোথাও বলেনি যে দু’কোটি নাম বাদ যাবে। সব রাজনৈতিক দলের থেকে নিশ্চিত হয়েই ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক বুথে নাম বাদ দেওয়ার আগে রাজনৈতিক দলের বিএলএদের সঙ্গে মিটিং করেছেন বিএলও। এমন উদ্যোগ এই প্রথম। ৫৮ লক্ষের মধ্যে এপর্যন্ত ১০-১২টি ক্ষেত্রে অভিযোগ এসেছে। তাছাড়া এটি চূড়ান্ত তালিকা নয়। কোনো ভুল থাকলে অভিযোগ জানানোর সুযোগও রয়েছে।’ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে হয়রানি নিয়ে দিব্যেন্দু দাস বলেন, ‘এই সংক্রান্ত তথ্য আমরা শুধু যাচাই করছি।’