• এল নিনো প্রভাব, এবছর দেশে বর্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা এখন থেকেই
    বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: এবছর দেশে বর্ষা নিয়ে একটা দুশ্চিন্তা তৈরি হল এখন থেকেই। এক্ষেত্রে ‘খলনায়ক’ হতে চলেছে প্রশান্ত মহাসাগরের  এল নিনো পরিস্থিতি। একটি আন্তর্জাতিক আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা এপিইসি ক্লাইমেট সেন্টার জানিয়েছে, আগামী বছরের জুলাই মাসের শেষদিকে প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে। ভারতে বর্ষাকালের আগমন হয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে। স্বাভাবিক নিয়মে জুন মাসের একেবারে প্রথমে কেরল উপকূল দিয়ে বর্ষা প্রবেশ করে দেশের মূল ভূখণ্ডে। একইসময় উত্তর-পূর্ব ভারতেও বর্ষা ঢুকে পড়ে। পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা আসার স্বাভাবিক সময় জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ। জুন মাসে বর্ষা প্রবেশ করলেও প্রথমদিকে তা কিছুটা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। বর্ষা সাধারণত বেশি সক্রিয় হয় জুলাই থেকে। গোটা দেশে জুলাই ও আগস্ট বর্ষার ভরা মরশুম বলে পরিচিত। এই দুটি মাসের বৃষ্টি দেশের চাষবাসের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক আবহাওয়ার সংস্থার পূর্বভাস যদি ঠিক হয় তবে সেইসময়ই এল নিনো পরিস্থিতি প্রভাব ফেলবে।প্রশান্ত মহাসাগরে পশ্চিম ও মধ্য উপকূলে জলের উষ্ণতা স্বাভাবিকের থেকে বেশি হলে সেটাকে এল নিনো পরিস্থিতি বলা হয়। জলের উষ্ণতার স্বাভাবিকের থেকে কম হলে হয় লা নিনা পরিস্থিতি। এর মাঝামাঝি পরিস্থিতিকে ‘এসনো নিউট্রাল’ বলা হয়। প্রশান্ত মহাসাগরে জলের উষ্ণতার তারতম্যজনিত পরিস্থিতি ভারতসহ বিভিন্ন দেশে মৌসুমি বায়ুর গতিবিধির উপর প্রভাব ফেলে। এটা আবহাওয়াবিদরা অনেকদিন ধরেই মেনে নিয়েছেন। লা নিনা পরিস্থিতি দেশে ভালো বৃষ্টির পক্ষে  ইতিবাচক হয়ে থাকে। নিউট্রাল পরিস্থিতিও মোটামুটি ইতিবাচক বলে মনে করা হয়। কিন্তু এল নিনো পরিস্থিতিতে বর্ষাকালীন বৃষ্টির উপরে নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা ফেলে। এর নজির অতীতে একাধিকবার দেখা গিয়েছে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন। গতবছর দেশে স্বাভাবিকের থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। গতবছর বর্ষার মরশুমে এসনো নিউট্রাল পরিস্থিতি ছিল। বর্ষা চলে যাওয়ার পর লা লিনা পরিস্থিতি তৈরি হয়। এখনো লা নিনা পরিস্থিতি চলছে। মার্চ মাস নাগাদ এসনো নিউট্রাল পরিস্থিতি তৈরি হবে। জানিয়েছে আন্তর্জাতিক আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থাটি। সেটা কয়েকমাস স্থায়ী থাকবে। তারপর জুলাই মাসের শেষদিকে আগমন হবে এল নিনোর। সাম্প্রতিককালের মধ্যে ২০২৩ সালে জুন মাসেও এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এল নিনো পরিস্থিতি তখন ছিল প্রায় ১১ মাস! সে-বছর বর্ষাকালকে প্রভাবিত করেছিল এল নিনো। ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এল নিনো পরিস্থিতি ছিল। তার কারণে উষ্ণতারও বৃদ্ধি হয়। গোটা দুনিয়ায় ২০২৪ সালটি উষ্ণতার নিরিখে রেকর্ড করেছিল। দেশে বৃষ্টি কম হওয়ার কারণে ধান, ভুট্টা ও ডাল জাতীয় শস্যের মতো বর্ষাকালীন ফসলের ফলন তখন কিছুটা মার খায়।তবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এতেই বর্ষা নিয়ে হতাশ হয়ে পড়তে হবে এমনটা ভাবার কারণ নেই। কারণ আরো কয়েকটি আবহাওয়াগত উপাদান আছে, যা দেশের বর্ষাকে প্রভাবিত করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল (আইওডি) পরিস্থিতি। এল নিনো পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে স্বাভাবিক বর্ষার বৃষ্টি হয়েছে এমন নজির আছে একাধিক। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর সবদিক পর্যালোচনা করে বর্ষাকালের আগমনের অনেক আগে থেকেই নির্দিষ্ট পূর্বাভাস জারি করবে। সেখানেই বলা হবে, এবার দেশে বৃষ্টি স্বাভাবিকের থেকে বেশি না কম হবে। সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা নেবে সরকার।
  • Link to this news (বর্তমান)