নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নন্দন চত্বরজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে সোনার বাট, গয়না। বিশাল গুহা খুলে যাচ্ছে ‘খুল যা সিম সিম’ বললেই। সেই দরজা খুললেই মিলবে গুপ্তধনের সন্ধান। এসব দেখে তো খুদেরা বেজায় খুশি। এ যেন বইয়ে পড়া আর পর্দায় দেখা আরব্য রজনীর গল্প, যা চলে আসছে চোখের সামনে। খুদে মন যখন এসব ভাবছে বড়োদের রসিক মন তখন বলছে, ভোটের আগে যেভাবে এজেন্সি ঘুরে বেরাচ্ছে, সোনার খোঁজ পেয়ে এখানে না চলে আসে!হচ্ছেটা কী? নন্দন চত্বরে শুরু হয়েছে ১২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উত্সব। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের শিশু কিশোর অ্যাকাদেমির উদ্যোগে উত্সব চলবে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। এ বছর শিশু চলচ্চিত্র উত্সবের থিম ‘গুপ্তধন’। সেই কারণেই নন্দন চত্বর আলিবাবার সব গুপ্তধনে ভরে উঠেছে। নন্দনের মূল ফটকের সামনে বিশাল দরজা। যার সামনে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি বলছেন, ‘খুল যা সিম সিম’। ভিতরে গেলে সেই ব্যক্তি গুপ্তধন দেখে অভিনয় করছেন। বাবা-মা’র হাত ধরে যাওয়া খুদেরা সেসব দেখছে অবাক চোখে। নন্দন, রবীন্দ্রসদন, শিশির মঞ্চ ছাড়াও সিনেমা দেখানো হচ্ছে রবীন্দ্রতীর্থ, রবীন্দ্র ওকাকুরা ভবন ও টালিগঞ্জের চলচ্চিত্র শতবর্ষ ভবনে। ৩১টি দেশের মোট ১৮০টি ছবি দেখানো হচ্ছে। আর রয়েছে গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শনশালার ‘গুপ্তধনের অভিযানে’ নামাঙ্কিত প্রদর্শনী। যেখানে গুপ্তধন সম্পর্কিত দেশি-বিদেশি লেখক ও চিত্র পরিচালকদের কাজকর্ম তুলে ধরা হয়েছে। একতলায় আরও একটি গুপ্তধনের সন্ধান পাওয়া যাবে। নীচে যেমন মিশরের পিরামিড থেকে আলাদিনের গুহার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তেমনই উপরে রাখা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় থেকে সত্যজিত্ রায় হয়ে হাল আমলের ছবির কথা।শিশু কিশোর অ্যাকাদেমির সভাপতি অর্পিতা ঘোষ বলেন, ‘বাচ্চাদের কাছে এটা মজার বিষয়। আমরা বলতে চেয়েছি, বাংলার সম্পদের কথা। আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সংস্কৃতিই আমাদের সম্পদ। সেটাই গোটা নন্দন চত্বরে ছড়ানো। এই বিষয়ে সারা পৃথিবীজুড়ে কী কী সাহিত্য হয়েছে, কী সিনেমা হয়েছে, সেগুলো তুলে ধরেছি। এই বিষয়ের বাংলা ছবিও দেখানো হচ্ছে।’ আর এত ধন-সম্পদ দেখে যদি কেন্দ্রীয় এজেন্সি আসে? অর্পিতা হাসতে হাসতে বলেন, ‘এলে আসুক।’