অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: ‘পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন...’ পাণ্ডুলিপির সে স্টলে ঢুকলে চমক। টেবিলের উপর সুসজ্জিত পুরনো টিনের বাক্স। তার শরীরে চাপ চাপ বাদামি মরচে। কিন্তু ‘তিনি ভিভিআইপি’। কারণ মরচে সরিয়ে ভিতর থেকে উঁকি দিচ্ছে জীবনানন্দের পাণ্ডুলিপি। ছাপা অক্ষর ফুটে উঠেছে দুই মলাটে। টিনের বাক্সের উপর রাখা নতুন বইও আছে, পাণ্ডুলিপির সমগ্র কবিতা। নতুন কিছুর টানে বইপ্রেমী মানুষের নজর কাড়ছে এই অমূল্য সংগ্রহ। তাই বইমেলায় ‘পুনশ্চ’র স্টলে এখন পাঠকদের লম্বা লাইন। শুধু বই কেনা নয়। বাড়তি পাওয়া পুরনো টিনের বাক্সের সঙ্গে ‘পাণ্ডুলিপির সেলফি’।‘পুনশ্চ’ প্রকাশনা সংস্থার স্নেহা নায়েক বলেন, ‘জীবনানন্দ গবেষক গৌতম মিত্র এই পাণ্ডুলিপিগুলি করেছেন। এই বইয়ের সম্পাদনাও তাঁর। অসাধারণ সংগ্রহ। বইমেলার শুরু থেকেই আমরা পাঠকদের ভালো সাড়া পাচ্ছি। পাণ্ডুলিপি সহ আস্ত টিনের বাক্স পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছি। কবির ১২৫তম জন্মশতবর্ষ স্মরণে ও সম্মানে এই বই।’বইমেলায় তরুণ প্রজন্মের প্রথম পছন্দ গবেষণাভিত্তিক বই। তা ইতিহাস হোক কিংবা সাহিত্য। পাঠকদের টানছে নতুন কাজ। ‘মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স’ থেকে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাধর্মী বই ‘বিদ্রোহী কলকাতা’। লিখেছেন তরুণ গবেষক সৌম্যব্রত দাশগুপ্ত। ব্রিটিশদের আগমন থেকে কলকাতা শহরে তাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত বিপ্লব। ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত কলকাতা শহরে ঘটে যাওয়া বিপ্লবীদের নানা ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে লেখায়। অপ্রকাশিত নানা নথি ব্যবহার করেছেন গবেষক। রয়েছে দুষ্প্রাপ্য নথি ও সমকালীন সংবাদপত্রের কাটিং। এই প্রকাশনার আর এক গবেষণাধর্মী বই ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, কলকাতায় নাৎসিরা’। লিখেছেন তরুণ গবেষক সৈকত নিয়োগী। বহু দুষ্প্রাপ্য নথি ও ছবি ব্যবহার করেছেন লেখক। যা মূলত আকর্ষণ করছে সবাইকে।গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে বলেন, আমরা চাই কলকাতা বইমেলায় সব ধরনের বই হোক। কারণ লক্ষ লক্ষ পাঠক আসেন। এক একজনের চাহিদা এক একরকম। গবেষণার কাজ বাড়ছে। আরও বাড়ুক। এবার দেখলাম, বইমেলা প্রাঙ্গণেই বহু মানুষ বই কিনে অন্যকে বই উপহার দিচ্ছেন। এটা বরাবরই ছিল। কিন্তু মাঝখানে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল এই ছবি। বইয়ের চেয়ে ভালো বন্ধু আর কেউ নেই। এবার ভিড় বাড়ছে। আমরা আশাবাদী, এবার বিক্রিও বাড়বে।