• ‘গণতন্ত্র ধ্বংস করে ভোটার দিবস!’ মানুষের হয়রানি অব্যাহত, কমিশনকে তীব্র আক্রমণ মমতার
    বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার ছিল জাতীয় ভোটার দিবস। নির্বাচন কমিশনের তরফে বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়। এমনকি, চলমান এসআইআর পর্বে ‘ভালো কাজের’ স্বীকৃতি হিসাবে রাজ্যের পাঁচ শতাধিক বুথ লেভেল অফিসারকে (বিএলও) সংবর্ধনা দিয়েছে তারা। যদিও তাতে বিএলওদের ক্ষোভ প্রশমিত হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এই আবহে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গণতন্ত্র ধ্বংস করে ভোটার দিবস উদযাপনের কোনো নৈতিক অধিকার কমিশনের নেই বলে তোপ দেগেছেন তিনি। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ‘প্রভু’ যে আসলে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি, তাও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন। এসআইআর নিয়ে কমিশন যখন সাফল্যের ঢাক পেটাচ্ছে, তখন মমতা সামনে এনেছেন ১৩০ জনের মৃত্যুর পরিসংখ্যান। তাঁর কথায়, ‘নির্বাচন কমিশনকে বলি, আপনারা মানুষকে অভূতপূর্ব অত্যাচারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন। আপনাদের অত্যাচারে এখনও পর্যন্ত ১৩০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। আপনারা যেভাবে ৮৫, ৯০, ৯৫ বছরের মানুষকে ডেকে পাঠাচ্ছেন এবং শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী মানুষকেও আপনাদের সামনে হাজির হতে বাধ্য করছেন, তা করার অধিকার কি আপনাদের আছে? এই বেআইনি চাপ ও নিগ্রহের ফলে আত্মহত্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। আপনারা এটা করছেন আপনাদের রাজনৈতিক প্রভুর নির্দেশে।’সংসদীয় রাজনীতিতে নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্রের উৎসব’ বলে অভিহিত করেন অনেকে। কিন্তু বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কমিশনের সাহায্যেই সেই উৎসব বানচাল করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। তাই নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির সহকারী সংস্থার তকমা দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। এই সূত্রে মমতা এদিন সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশন এখন লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নামে নতুন নতুন অজুহাত তৈরি করে চলেছে। মানুষকে অত্যাচার করা হচ্ছে। তাঁদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাদের প্রভু বিজেপির হয়ে তারা বিরোধীদের ধ্বংস করতে  এবং দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তিমূলে আঘাত করতে চায়।’ নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে মমতার আরও তোপ, ‘আপনাদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এবং একতরফা বেআইনি কাণ্ডকারখানা, দলে দলে মাইক্রো অবজার্ভার ইত্যাদি পাঠিয়ে নিগ্রহ ও হেনস্তা বৃদ্ধি এবং মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার পরিণতি হল আমাদের গণতন্ত্রের ধ্বংস। তাই ভোটার দিবস পালনের কোনো অধিকার আপনাদের নেই।’
  • Link to this news (বর্তমান)