• ব্যাংক কর্মীদের টার্গেট বেঁধেও প্রতি বছর কমছে নথিভুক্তি, সামাজিক সুরক্ষা! জনতার কাছে অটল পেনশন ৪২ টাকার ‘লগ্নি’
    বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: বিশ্ব সামাজিক সুরক্ষা সূচকে ভারতের স্থান দ্বিতীয়। চীনের পরেই। প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অটল পেনশন যোজনা চালু করেন। বিজেপি তথা কেন্দ্রের দাবি, তাদের এই ফ্ল্যাগশিপ পেনশন প্রকল্পের দৌলতেই সামাজিক সুরক্ষায় সম্মানজনক স্থান অর্জন করেছে ভারত। বিশ্বমঞ্চে হাততালি কুড়িয়ে চলেছে মোদি সরকার। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা কি সত্যিই এতটা ঝকঝকে? তা-ই যদি হবে, তাহলে ব্যাংকগুলিকে টার্গেট বেঁধে দেওয়ার পরও কেন বছর বছর এই যোজনায় নাম নথিভুক্তি কমছে? তার থেকেও বড় প্রশ্ন, এর মাধ্যমে আদৌ কি গ্রাহকের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে?কেন্দ্র জানাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় সাড়ে আট কোটি মানুষ এর আওতায় এসেছেন। অটল পেনশন যোজনায় মোট পাঁচটি ক্যাটিগরি। মাসে ১০০০ থেকে শুরু করে ২, ৩, ৪ ও ৫ হাজার টাকা পেনশন মিলতে পারে। ১৮ বছরের কেউ তাঁর ৬০ বছর পর্যন্ত অর্থাৎ টানা ৪২ বছর বার্ষিক ৪২ টাকা প্রিমিয়াম জমা করলে মাসে ১০০০ টাকা করে পেনশন পাবেন। এই পেনশন ২, ৩, ৪ বা ৫ হাজার করতে চাইলে প্রিমিয়ামের অঙ্কও বাড়বে একই হারে। দেখা যাচ্ছে, নথিভুক্ত সাড়ে আট কোটির মধ্যে প্রায় ৭ কোটি ৩৫ লক্ষই (৮৭%) ১০০০ টাকা পেনশনের জন্য নাম লিখিয়েছেন। ২০০০ টাকা পেনশনের ক্ষেত্রে এই হার তিন শতাংশ। তিন ও চার হাজার টাকা পেনশনের জন্য যথাক্রমে ১.৫ ও ০.৫ শতাংশ। আর ৫০০০ টাকা পেনশনের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা প্রায় ৬৯ লক্ষ বা প্রায় ৮ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, ৮৭ শতাংশই ৩০-৪০ বছর পর মাসে মাসে এক হাজার টাকা করে পেতে শুরু করবেন। কারণ, সিংহভাগ গ্রাহকের বয়স এখন ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তাঁরা পেনশন পাবেন ৬০ বছর বয়সে। এখানেই প্রশ্ন, এত বছর পর মাসে মাত্র হাজার টাকা ঠিক কোন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে? তাছাড়া, সিংহভাগ গ্রাহক কেন ন্যূনতম স্ল্যাবেই রয়ে গেলেন, সেই প্রশ্ন তুলেছে অর্থ বিষয়ক সংসদীয় কমিটিই। তাদের পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে সরকার যত গ্রাহককে এই প্রকল্পের আওতায় আনার টার্গেট নিয়েছিল, তার ৯০ শতাংশ পূরণ হয়। পরের অর্থবর্ষে তা কমে হয় ৭৪ শতাংশ। ওই অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের প্রস্তাবিত বাজেট বরাদ্দের মাত্র ২৯ শতাংশ খরচ হয়েছে।‘সাফল্য’ নিয়ে সংশয়ের আরও কারণ আছে। বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সম্পাদক সৌরভ মণ্ডল, অল ইন্ডিয়া ব্যাংক অফিসার্স কনফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক শুভজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে ব্যাংককর্মীদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই যোজনায় নাম তোলার হার খুব কম। কেন্দ্রীয় সরকার মুখরক্ষায় যেভাবে নাম তোলার টার্গেট বেঁধে দিচ্ছে, তাতে গ্রাহকদের কার্যত বাধ্য করাতে হচ্ছে এর জন্য। কখনও আবার গ্রাহকের অজান্তেই সইসাবুদ করিয়ে নাম তুলে দেওয়া হচ্ছে। তারপরও বছর বছর কমছে নাম নথিভুক্তি। যাঁদের ওই প্রকল্পের সদস্য করা হচ্ছে, তাঁদের যোজনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।
  • Link to this news (বর্তমান)