সন্দেহজনক ভোটারদের তালিকা টাঙানো শুরু বিকেলে, ‘ডিএম’ না ‘ইউএম’? নয়া আতঙ্ক
বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যতম দাবি ছিল, সন্দেহজনক ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। সুপ্রিম নির্দেশ মেনে কমিশনই জানিয়েছিল, ২৪ জানুয়ারি প্রকাশ হবে সেই তালিকা। কিন্তু নিজেদের ডেডলাইনও ফেল করল তারা। একদিন পর, রবিবার বিকেলে যখন তালিকা প্রকাশ হল, ততক্ষণে আতঙ্কের পারদ চড়ছে আম জনতার অন্দরমহলে। যাও বা লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা টাঙানো শুরু হল, সেটাও গোটা রাজ্যের কিছু জায়গায়। কোথাও প্রিন্ট হয়নি, কোথাও প্রিন্টআউট টাঙানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। সারমর্ম? মানুষের হয়রানি। উপরন্তু উদ্বেগের নয়া আতঙ্ক দু’টি শব্দ—‘ডিএম’ ও ‘ইউএম’! এর মানে খুঁজতেই কাঁপুনি ধরেছে ভোটারের। পরে একে ওকে জিজ্ঞেস করে তাঁরা জেনেছেন, ‘ডিএম’ কথার অর্থ, যে ভোটারের নাম ম্যাপ হলেও সন্দেহজনক বলে মনে করছে কমিশনের ‘এআই সফটওয়্যার’। আর ‘ইউএম’-এর মানে, যাঁর নাম ম্যাপই হয়নি।তালিকায় থাকা নামের পাশে লেখা রয়েছে ‘নোটিসের শ্রেণি’। সেই তালিকায় লেখা ‘ডিএম’, ‘ইউএম’। কাজেই, কে ‘ডিএম’, কে ‘ইউএম’? কে কম সন্দেহজনক, কে বেশি? এ নিয়ে নতুন আতঙ্ক শুরু হয়েছে। এর মাঝে আবার সর্বত্র সেই তালিকা পৌঁছায়নি। রবিবার বিকেল নাগাদ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন ব্লকে তালিকা টাঙানো শুরু হয়েছে। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসেও এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেই খবর চাউর হতেই গ্রামবাসীরা চলে এসেছেন তালিকা দেখতে। সেখানেও বিপত্তি! অনেকেরই তালিকায় নাম আছে, অথচ শুনানির নোটিস পাননি। হাওড়া শহরের কোনো বিধানসভা এলাকায় যেমন তালিকা টাঙানো সম্ভবই হয়নি। এদিন বাঁকড়া-১ পঞ্চায়েতে তালিকা নিয়ে হাজির হয়েছেন বিডিও অফিসের কর্মী। কিন্তু তালিকা কোথায় টাঙানো হবে, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। রাতে তালিকা ছিঁড়ে ফেলার আশঙ্কাও রয়েছে। বিকেলে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পুরসভা, হাবড়ার কুমড়া পঞ্চায়েতের মতো একাধিক পঞ্চায়েত ও বিডিও অফিসে তালিকা ঝোলানো হয়। কিন্তু বরানগরের মতো এলাকা তাতে ‘বঞ্চিত’। কলকাতায় ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন বুথ ও ওয়ার্ড অফিসে অবশ্য ‘সন্দেহজনক’দের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। স্থানীয় কাউন্সিলার দেবলীনা বিশ্বাস বলেন, ‘নির্বাচনি অফিসারদের তাড়া দিয়ে তালিকা আনানো হয়েছে। কলকাতার উত্তর বা দক্ষিণে সর্বত্র তালিকা আসেনি।’ হুগলিতে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ হতেই ভিড় জমিয়েছেন নাগরিকরা।লিস্ট ঝুলেছে দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের ব্লক, পুরসভা ও গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসেও। দুই বর্ধমানেও তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ ভোটারের তালিকা প্রিন্ট আউট করতে সমস্যায় পড়েন প্রশাসনিক কর্মীরা। বাঁকুড়ায় শুনানিতে ডাক পাওয়া ২ লক্ষ ৯৪ হাজার সন্দেহজনক ভোটারের নামের তালিকা প্রকাশ গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে শুরু হয়েছে। পুরুলিয়ার বলরামপুর, বান্দোয়ান, মুর্শিদাবাদ-নদীয়াতেও এদিন বেশ কিছু ব্লক অফিসে তালিকা টাঙানো হয়েছে। বীরভূমেও ডিসক্রিপেন্সি লিস্ট দিনের আলো দেখেছে কয়েকটি পঞ্চায়েত এলাকায়।উত্তরবঙ্গের চিত্রটাও একইরকম। শনিবার রাতে উত্তর দিনাজপুর জেলার বিডিও অফিসগুলোতে ওই তালিকা টাঙানো হয়। যদিও দক্ষিণের উৎকণ্ঠা নিরসন হয়নি। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিংয়ে কাজ শুরু হয়েছে। মালদহের জেলাশাসক ডাঃ প্রীতি গোয়েল জানিয়েছেন, সোমবারের মধ্যে সর্বত্র তালিকা টাঙানো হবে। শুনানি হলেও ‘যাচাই’ ঝুলে, চরম ভোগান্তিসৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: শুনানি কেন্দ্রে গিয়ে নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত একাধিক নথি জমা দিয়েও শান্তি নেই! ঝুলে থাকছে সেসব নথির সত্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। ফলে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না এসআইআর-বিদ্ধ ভোটার। তাঁদের ভোগান্তি ও উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটাররা যেসব নথি জমা দিচ্ছেন, তা সঙ্গে সঙ্গে ডিইও তথা জেলাশাসকের লগ-ইন আইডিতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেখানে চূড়ান্ত যাচাইয়ের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হচ্ছে না। কারণ, কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক জমা পড়া নথি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়ে জানতে হবে সেটি আসল না ভুয়ো। সেই উত্তর আসতে লেগে যাচ্ছে অনেকটা সময়। ফলে চূড়ান্ত যাচাই ঝুলে থাকছে। কমিশন সূত্রে খবর, এই কারণে কোনো জেলায় ২০ হাজার, কোথাও আবার প্রায় এক লক্ষ ভোটারের নথি যাচাই ঝুলে রয়েছে। কমিশনের নিয়ম হল, নথি মেল করার পাঁচদিনের মধ্যে উত্তর দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু সিংহভাগ ক্ষেত্রে এই সময়সীমা মানা হচ্ছে না বলে খবর। নির্বাচনি আধিকারিকদের সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, সবথেকে বেশি উত্তর আসা বাকি পাসপোর্ট অফিস থেকে। জমি-জায়গার পুরানো দলিলের ক্ষেত্রে বিএলএলআরও অফিস থেকে সময়ে জবাব আসছে না। আধিকারিকদের দাবি, সময়ে সব উত্তর চলে এলে এতদিনে অনেক ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়ে যেত।