বিজেপির অভিযোগে মান্যতা কমিশনের বসিরহাট-২ বিডিওকে সাসপেন্ডের নির্দেশ
বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, বারাসত ও হুগলি: চারদিন আগে বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকা সংশোধনের শুনানি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল গেরুয়া শিবির। রীতিমতো যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেই অভিযোগে সিলমোহর দিল কমিশন। রবিবার রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, ওই বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও তথা বসিরহাট-২ ব্লকের বিডিও সুমিত্র প্রতিম প্রধানকে সাসপেন্ড করতে হবে। ভোটার তালিকা সংশোধনের যাবতীয় কাজ থেকে তাঁকে সরিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে হবে। চিঠি পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনকে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট পাঠাতে হবে। এমনকি, ওই এলাকায় ফের নতুন করে শুনানির কথাও বলেছে কমিশন। এই খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিন নির্বাচন কমিশনের তরফে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকা সংশোধনের শুনানিতে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়েছে। এই কেন্দ্রের এইআরও তথা বসিরহাট-২ ব্লকের বিডিও নিজে ‘সুয়ো মোটো’ নির্দেশ জারি করে ১১ জন অফিসার নিয়োগ করেছেন। যাঁদের শুনানির কাজে লাগানো হয়েছে। অথচ, ওই ১১ জন অফিসারকে এইআরও হিসেবে নোটাফাই করা হয়নি। যা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৩সি ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং গুরুতর প্রশাসনিক গাফিলতি। তাই ওই এইআরওকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করে ভোটার তালিকা সংশোধনের যাবতীয় কাজ থেকে সরাতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চালু করতে হবে। অন্যদিকে, দিল্লির নির্বাচন কমিশনের তরফে এ রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়ালকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, এইআরও’র নিয়োগ করা ১১ জন অফিসার যেসব শুনানি ও অন্যান্য কাজ করেছেন, তা ফের নতুন করে করতে হবে। ফলে এই বিধানসভার মানুষকে ফের শুনানির জন্য আসতে হবে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এদিকে, লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নামে ফের শুনানিতে ডাক পাওয়ায় হয়রানির অভিযোগ তুললেন বারাসতের নাগরিকরা। রবিবার বারাসত ১ নম্বর বিডিও অফিসে শুনানিতে অংশ নিতে এসে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। এদিন শুনানিতে ডাকা সকলেই ভোগান্তির শিকার হন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম থাকা সত্ত্বেও শুনানিতে একবার নয়, একাধিকবার ডাকা হচ্ছে বহু মানুষকে। বারাসত ১ নম্বর ব্লকের ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ৬২ হাজার। তার মধ্যে প্রায় ৭০-৭২ হাজার ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এর মধ্যে এদিনই ডাকা হয়েছে ৫ হাজার ভোটারকে। ক্ষুব্ধ শেখ আজহারউদ্দিন বলেন, আমার বাড়ি থেকে বিডিও অফিস প্রায় ১৫ কিলোমিটার। শুনানির জন্য তাই সমস্ত কাজ বন্ধ রেখে আসতে হয়েছে। বারাসত ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হালিমা বিবি বলেন, আমাদের এলাকা কৃষিপ্রধান। বিজেপির অঙ্গুলি হেলনে নিবার্চন কমিশন মানুষদের হয়রানি করতেই এমনটা করছে।অন্যদিকে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরেও হুগলি জেলায় এসআইআরের শুনানিতে নথি দিলেও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। এমনই অভিযোগ তুলে জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কাছে চিঠি দিল হুগলির নাগরিক সংগঠন সিটিজেন্স ফোরাম। ফোরামের সভাপতি প্রবীণ আইনজীবী শৈলেন পর্বত বলেন, একে তো এসআইআর নিয়ে নাগরিকদের হয়রানি চরমে উঠেছে। আদালতের নির্দেশও মান্যতা পাচ্ছে না। শুনানিতে যাওয়া নাগরিকদের তথ্য প্রাপ্তি স্বীকার করে রসিদ দেওয়া হচ্ছে না।