• পার্ক সার্কাসে চায়ের দোকানে বচসা থেকে শূন্যে গুলি, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত
    বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চায়ের দোকানে বচসা। তার জেরেই শূন্যে দুই রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল পার্ক সার্কাস মোড়ে। শনিবার রাত ২টো নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগ, বচসার পর এক যুবক কামালউদ্দিন নামের এক যুবককে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভয় দেখায়। এরপরই শূন্যে গুলি ছোড়ে। গুলি চালানোর অভিযোগে ফরিদ আলম নামের ওই দুষ্কৃতীকে রবিবার ভোরে গ্রেপ্তার করেছে কড়েয়া থানার পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, পার্ক সার্কাসের সাতমাথার মোড়ে গভীর রাতেও অনেকগুলি চায়ের দোকান খোলা থাকে। অনেকেই পার্টি শেষ করে এখানে চা খেয়ে বাড়ি ফেরেন। প্রতিদিন গাড়ির লম্বা লাইন থাকে দোকানগুলিতে। এমনই এক দোকানে শনিবার গভীর রাতে চা খেতে আসেন কামালউদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন বেশ কয়েকজন বন্ধু। রাত দেড়টা নাগাদ সেখানে আসে স্থানীয় যুবক ফরিদ আলম। অভিযোগ, ফরিদ চায়ের অর্ডার করলে দোকানি তা দিতে দেরি করে। তার ধারণা হয়, কামালউদ্দিনদের জন্যই তাকে চা দিতে দেরি করছেন দোকানি। কামালউদ্দিন বন্ধুদের সঙ্গে অনেকটা জায়গাজুড়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন। গল্প করতে করতে রাত ২টো বেজে যায়। এ নিয়ে প্রথমে কামাউদ্দিনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় ফরিদের। এক পাড়ার বাসিন্দা হওয়ায় ফরিদকে চিনতেন কামালউদ্দিন। ক্রমেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। দু’জনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয় বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, এই সময় কোমর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের কামালউদ্দিনকে ভয় দেখায় ফরিদ। হুমকি দেয়, বেশি বাড়াবাড়ি করলে গুলি চালিয়ে দেবে। এই এলাকায় তাকে কেউ কিছু করতে পারবে না। আগ্নেয়াস্ত্র দেখে ভয় পাননি কামাউদ্দিন। তাঁরা অভিযুক্তকে ঘিরে ধরার চেষ্টা করলে ফরিদ তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো কারণে গুলি বের হয়নি। এরপর শূন্যে দু’রাউন্ড গুলি ছুড়ে এলাকা ছেড়ে পালায় সে। খবর পেয়ে আসে কড়েয়া থানার পুলিশ। তারা ঘটনাস্থল থেকে কার্তুজের দু’টি খোল উদ্ধার করে। কামালউদ্দিন পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, তাঁকে লক্ষ্য করেই গুলি চালানো হয়েছিল। তার ভিত্তিতে পুলিশ কেস রুজু করে। ভোরের দিকে পার্ক সার্কাস এলাকায় বাড়িতে হানা দিয়ে ফরিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, কামালউদ্দিনকে ভয় দেখাতেই সে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। এলাকায় কামালউদ্দিনের দাপট থাকায় সে ঢুকতে পারছিল না। স্থানীয় এক দুষ্কৃতীর থেকে সে এই আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছিল। আগ্নেয়াস্ত্রটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তাকে যে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়েছিল, তাকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। যদিও পুলিশ দাবি করেছে, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভয় দেখিয়েছিল অভিযুক্ত। গুলি চলেনি।
  • Link to this news (বর্তমান)