• প্রজাতান্ত্রিক শাসনে নাগরিকই সব: রাজনাথ সিং
    এই সময় | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • রাজনাথ সিং

    ১৯৫২-র ১৬ মে সংসদের প্রথম নির্বাচিত অধিবেশনে ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ এক ঐতিহাসিক সত্য স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন— রাজনৈতিক স্বাধীনতা প্রাপ্তিই শেষ নয়, বরং জনগণের দুঃখ মোচন ও সুখ নিশ্চিত করাই প্রজাতন্ত্রের আসল কাজ। সেই দর্শনেই ভারত আজ 'প্রজা'র দেশ থেকে 'নাগরিক'দের সাধারণতন্ত্রে উন্নীত হয়েছে। গণতন্ত্রের ধ্রুপদী সংজ্ঞা— 'জনগণের, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য'— কেবল শব্দবন্ধে সীমাবদ্ধ না থেকে আজশাসনে প্রতিফলিত।

    ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য প্রাচীন 'যোগ-ক্ষেম', গান্ধীর 'সর্বোদয়' কিংবা দীনদয়াল উপাধ্যায়ের 'একাত্ম মানববাদ'-এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। গত এক দশকে মোদী সরকারের 'সবকা সাথ, সবকা বিকাশ' মন্ত্র সেই ঐতিহ্যকেই আধুনিক রূপ দিয়েছে। যেখানে শাসনব্যবস্থা কেবল পদ্ধতিগত নয়, বরং কর্মক্ষমতা দিয়ে বিচার্য। বিশ্বব্যাঙ্কের ২০২৫-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গত দশকে ভারত ১৭ কোটিরও বেশি মানুষকে চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করেছে, যা 'জনগণের জন্য' শাসনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্বচ্ছ ভারত মিশন আজ কেবল শৌচালয় নির্মাণ নয়, নারী মর্যাদা ও জনস্বাস্থ্যের এক গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। একই ভাবে জন ধন যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত এবং মুদ্রা যোজনার মতো প্রকল্পগুলো প্রান্তিক মানুষকে মহাজনী প্রথা থেকে মুক্তি দিয়ে আর্থিক ও সামাজিক স্বনির্ভরতা দিয়েছে। নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মের মাধ্যমে লোকসভায় ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ গণতন্ত্রের 'জনগণের দ্বারা' নীতিকে আরও সুসংহত করেছে।

    ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে এ কথা স্পষ্ট যে, ভারতীয় প্রজাতন্ত্র কোনো স্থির গন্তব্য নয়, বরং এক নিরন্তর যাত্রা। আজ নাগরিকরাই শাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে। সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং মানবিক মর্যাদাকে পাথেয় করেই এগিয়ে চলেছে আগামীর জন-কেন্দ্রিক ভারত।

    (লেখক ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী)

  • Link to this news (এই সময়)