এই সময়, মালদা ও শিলিগুড়ি: প্রতিদিনই 'সার' শুনানিতে ডাক পাওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এফিডেভিটের জন্য মালদা জেলা আদালতে ফাস্ট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ছে নিত্যদিন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, নোটারি পাবলিক-এর এফিডেভিট কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের হয়রানি যেমন কমত তেমনি আদালত কর্তৃপক্ষের চাপও কম হতো। মালদা বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী শাশ্বত চৌধুরী জানিয়েছেন, 'সার' এর আগে প্রতিদিন মালদা আদালতে বিভিন্ন এফিডেভিটের জন্য ৭০ থেকে ৮০ জনের আবেদন জমা পড়ত। কিন্তু এখন প্রতিদিন গড়ে ৩০০-র বেশি আবেদন জমা পড়ছে। জুডিশিয়াল কোর্টে ৮০ জনের বেশি আবেদন নেওয়া হচ্ছে না। কারণ সেখানেও কাজের চাপ রয়েছে। যদি এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের এফিডেভিটের গ্রহণযোগ্যতা থাকে তা হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের চাপ কমবে।'
মালদার মানিকচক ব্লকের ভূতনি থানার হীরানন্দপুরের বাসিন্দা জয়দেব মণ্ডল পেশায় হাট ব্যবসায়ী। তাঁর বাড়ি থেকে মালদা আদালতের দূরত্ব প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। আজ, রবিবার 'সার' শুনানিতে তাঁর ডাক পড়েছে। দিন তিনেক ব্যবসা বন্ধ রেখে আইনজীবীর সাহায্য নিয়ে এফিডেভিট করেছেন। তাঁর কথায়, 'ভেবেছিলাম হাতে হাতে কাজ হয়ে যাবে। প্রয়োজনের বেশি খরচ করেও তিন দিন ঘুরতে হয়েছে।' শিলিগুড়িতেও প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে।
বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উদয়শংকর মালাকারের বক্তব্য, 'সার-এর ক্ষেত্রে নোটারি এফিডেভিট নেওয়া হচ্ছে না। সেই কারণে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের এফিডেভিট করার সংখ্যা বেড়েছে। এতে মামলার শুনানিতেও সমস্যা হচ্ছে।' শিলিগুড়ি আদালতের আইনজীবী অত্রী শর্মা বলেন, 'আদালতে প্রায় আড়াই হাজার আইনজীবী রয়েছেন। শিলিগুড়ির জনসংখ্যাও প্রচুর। ফলে দৈনিক ৪০টি এফিডেভিট করে সমস্যা মিটবে না। আলাদা কোনও রাস্তা বের করা গেলে ভালো হতো।'