এই সময়, আসানসোল: ছুটির দিন হলেও রবিবার আসানসোল মহকুমা জুড়ে বিডিও দপ্তর থেকে মহকুমা শাসকের দপ্তর এবং বিভিন্ন শুনানি কেন্দ্র খোলা ছিল। বিশেষ রোল অবজার্ভার শশাঙ্ক মিশ্র আসানসোলে পৌঁছে সরেজমিন পরিস্থিতি দেখেন।
প্রথমেই তিনি জেলাশাসকের দপ্তরে বসে ভিডিয়ো কনফারেন্সে সব এআরইও এবং এআরওদের সঙ্গে আলোচনা করেন। শুনানি কেন্দ্রে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। জেলাশাসক এস পোল্লামবলম জানান, অধিকাংশ গ্রামীণ ব্লকের শুনানি শেষ পর্যায়ে। আসানসোল উত্তর, আসানসোল দক্ষিণ ও কুলটি বিধানসভায় আরও সময় লাগছে।
এ দিন জেলা নির্বাচনী দপ্তরে একটি নতুন নির্দেশনা এসেছে। এর আওতায় বলা হয়েছে, বিশেষ করে সাঁওতাল, কোড়া, বাগদি, বাউড়ি, রুইদাস, মুচি সম্প্রদায়ের ভোটাররা যদি সঠিক কাগজপত্র জমা দিতে না পারেন বা শুনানিতে সমস্যা হয়, তা হলে এ সব এলাকা ভিত্তিক জায়গা চিহ্নিত করে জেলা নির্বাচন আধিকারিক বা জেলাশাসকের কাছে পাঠাতে হবে। জেলাশাসক সেখানে বিশেষ দল পাঠাবে এবং রিপোর্ট কমিশনের কাছে পাঠানো হবে।
উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, বহু গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে আদিবাসী প্রধান। অতীতে মাঝি পদবি ব্যবহৃত হলেও পরবর্তী প্রজন্ম বিভিন্ন ভাবে- মুর্মু, টুডু, হেমব্রম বা হেমরম, বেসরা-এই পদবি ব্যবহার করেছে। মুচিপাড়া বা বাউড়িপাড়া হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় অনেকের পুত্র-কন্যা পদবি বদলেছে। যদি কাগজপত্রে সমস্যা হয় এবং একসঙ্গে বহু ভোটার সমস্যার মুখোমুখি হন, তবে নির্বাচনের সর্বোচ্চ আধিকারিকের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রানিগঞ্জে নতুন শুনানির নোটিস দেওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভদেখা দিয়েছে। নবীনগরের বাসিন্দারা বলেন, তাঁদের ১০৮০ জন ভোটারের মধ্যে আগেই ৪৩২ জনকে শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এ দিন কেবল সংখ্যালঘু এলাকা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষই দেখা গিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নতুন ১৩২ জনের নোটিস এ ভাবে শেষ মুহূর্তে দেওয়ায় তাঁরা ঝুঁকিতে পড়েছেন। ২৭ এবং ২৮ জানুয়ারি তাঁদের নতুন করে ডাকা হয়েছে। বাসিন্দারা বলেন, 'কাগজপত্র প্রস্তুত করতে সময় লাগবে। একেবারে শেষ সময়ে কেন নোটিস দেওয়া হলো, তা বোঝা যাচ্ছে না।'