এই সময়, ব্যারাকপুর: 'সার' প্রক্রিয়া নিয়ে জল যত গড়াচ্ছে, ততই কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে রাজ্যের শাসকদল। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনে রবিবার তৃণমূলের দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্ব বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানেই আগামী দিনের রণকৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের নেতৃত্ব দেন তৃণমূলের দমদম ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা সংসদ পার্থ ভৈমিক। উপস্থিত ছিলেন এই সাংগঠনিক জেলার সমস্ত সাংসদ, বিধায়কগণ ও দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব। বৈঠকে পার্থ ভৌমিক বিধানসভা ধরে ধরে বিধায়কদের নির্দেশ দিয়েছেন আগামী দু'দিনের মধ্যে সমস্ত বিএলএ টু-দের সঙ্গে বৈঠকে বসে তাঁদের আরও বেশি সক্রিয় করার পাশাপাশি তাঁদের কাছে দলীয় নির্দেশ পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার প্রতিটি বিধানসভায় একটি করে ওয়াররুম চালু করা হবে। প্রতিটি বিধানসভায় ডিসক্রিপেন্সি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেই তালিকা ধরে ধরে প্রত্যেকের বাড়ি যেতে হবে বিএলএ-টু এবং তৃণমূলের বুথ রক্ষা কমিটির সদস্যদের। পাশাপাশি কাদের শুনানিতে ডাকা হলো, কতজন হাজিরা দিলেন সব তথ্য প্রতিদিন ওয়াররুমে পাঠাতে হবে। তাঁরা শুনানি কেন্দ্রগুলিতে উপস্থিত থেকে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিদিনের হিসেব ওয়াররুমে পাঠাবেন। সংশ্লিষ্ট বিধানসভার বিধায়ক সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে সেটি জমা করবেন কেন্দ্রীয় ওয়াররুমে। এই কর্মকাণ্ডে দলের একেবারে নিচুতলার কর্মী থেকে শুরু করে বিধায়ক, সাংসদরাও যুক্ত থাকবেন বলে জানিয়েছেন পার্থ।
দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার কেন্দ্রীয় ওয়াররুম হয়েছে তৃণমূলের টিটাগড় জেলা পার্টি অফিসে। প্রতিটি বিধানসভা থেকে প্রতিদিনের রিপোর্ট জমা পড়বে সেখানে। কেন্দ্রীয় ওয়াররুমের ইনচার্জ করা হয়েছে তৃণমূলের মুখপাত্র তথা পানিহাটির কাউন্সিলার সম্রাট চক্রবর্তীকে। তিনি পার্থকে রিপোর্ট করবেন। পার্থ সমস্ত বিধানসভা থেকে আসা রিপোর্ট খতিয়ে দেখে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পাঠাবেন।
তৃণমূল সূত্রে খবর, সার প্রক্রিয়া শেষ হলেই বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিতে পারে নির্বাচন কমিশন। সে ক্ষেত্রে হাতে খুব একটা সময় পাওয়া যাবে না। তাই প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় সার প্রক্রিয়ায় দলের নিচুতলার কর্মীদের সক্রিয় করতে উদ্যোগী হয়েছেন অভিষেক। দিন দুয়েক আগেই তৃণমূলের সমস্ত বিএলএ-টু এবং দলের বিধায়ক, সাংসদ ও পুরপ্রতিনিধিদের নিয়ে এক ভার্চুয়াল বৈঠক করেছিলেন তিনি। এর পরই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজে নেমে পড়েছে সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্ব।
এ দিনের বৈঠক শেষে রাজ্যের মন্ত্রী তথা দমদমের বিধায়ক ব্রাত্য বসু বলেন, 'বিজেপি যদি বুনো ওল হয়, তৃণমূল তবে বাঘা তেঁতুল। তৃণমূলের কাছে সব রোগের ওষুধ রয়েছে। তাই সার করে, মানুষকে বিপদে ফেলে, লাইনে দাঁড় করিয়ে দিল্লি, বিহারে ভোটে জিততে পারবে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে এটা সম্ভব নয়।'