প্রতি বছরই নির্বাচন কমিশনের প্রতিষ্ঠা দিবস, ২৫ জানুয়ারিতে জাতীয় ভোটার দিবস পালিত হয়। এ বার সেই ভোটার দিবসেই নির্বাচন কমিশন বিরোধীদের তোপের মুখে পড়ল। অভিযোগ উঠল, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ‘অপরিকল্পিত’ ভাবে এসআইআর চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এসআইআর-এর সুযোগ নিয়ে বিজেপি ‘পরিকল্পিত’ ভাবে বিরোধীদের ভোট কাটছে।
বিরোধীদের এই আক্রমণ কার্যত উড়িয়ে আজ ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এসআইআর-এর পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রথমে বিহার, তারপরে ১২টি রাজ্যের পরে বাকি অন্যান্য রাজ্যেও খুব দ্রুত এসআইআর শুরু হবে। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, সম্ভব হলে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল, না হলে জুন থেকে অগস্টের মধ্যে তৃতীয় দফায় আরও একগুচ্ছ রাজ্যে এসআইআর হবে। জনগণনা ও দশম-দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার দিকটি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ভোটার দিবসে খোলা চিঠিতে দেশের তরুণদের কেন্দ্রীয় যুব কল্যাণ ও মন্ত্রকের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘মেরা যুবা ভারত’-এ নাম লেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এই প্ল্যাটফর্মে নাম লেখানো স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে দেশ জুড়ে পদযাত্রা শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতে অবশ্য এসআইআর বা ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কোনও উল্লেখ নেই। কিন্তু এই পদযাত্রা এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের তিরের মুখে পাল্টা প্রচার কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।রবিবার দিল্লিতে জাতীয় ভোটার দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এসআইআর-এর পক্ষে সওয়াল করে বলেন, “বিশ্বের সমস্ত গণতন্ত্র মেনে নেয় যে, বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা মজবুত গণতন্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর। কোনও যোগ্য ব্যক্তি যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায় আর কোনও অযোগ্য ব্যক্তি যাতে ভোটার তালিকায় না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এসআইআর শুরু হয়েছে।”
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে অভিযোগ তুলেছেন, “ভারতের মানুষের অধিকার হল নিরপেক্ষ, অবাধ ও আতঙ্কহীন নির্বাচন। যেখানে বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা ও সমান সুযোগ প্রাথমিক চাহিদা। ভোট চুরির মাধ্যমে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া ও অপরিকল্পিত এসআইআর ভারতের দীর্ঘদিনের গণতন্ত্রের ক্ষতি করছে।” লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী শনিবারই বলেছিলেন, যেখানেই এসআইআর হচ্ছে, সেখানেই বিরোধীদের ভোটারদের নাম কাটতে এক ব্যক্তির নামে বহু ভোটারের নামে আপত্তি জমা পড়ছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, সরকার মহিলা ভোটারদের জয়গান গাইছে। অথচ এসআইআর-এ মহিলা ভোটারদেরই বেশি হারে নাম বাদ পড়ছে।
বিরোধীদের তিরের মুখে জ্ঞানেশ কুমার আজ বিহারে এসআইআর-এর সাফল্য তুলে ধরেছেন। বিহারের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বিনোদ গুঞ্জিয়াল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পুরস্কারও নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ভোট দেওয়া শুধু রাজনৈতিক মতপ্রকাশ নয়, গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা প্রকাশও।