বাজেট ২০২৬: কোন পথে ভারতের কৃষি, কী চাইছেন দেশের কৃষকরা
আজকাল | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের কৃষি খাত গত দুই দশকে বৃদ্ধি, উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে উন্নতি করলেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে পরবর্তী ধাপে পৌঁছাতে গেলে আরও লক্ষ্যভিত্তিক সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। আসন্ন বাজেট ২০২৬–এ তাই কৃষি শিল্পের বড় অংশ আশা করছে তিনটি বড় অগ্রাধিকারে—স্থিতিশীল কৃষি, পুষ্টিনির্ভর খাদ্যব্যবস্থা এবং শক্তিশালী গবেষণা ও উন্নয়ন।
কৃষিতে সাসটেইনেবিলিটি এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষিতে উৎপাদনশীলতা এবং ফসলের ঝুঁকি দুই-ই বেড়েছে। খরার সঙ্কট, অনিয়মিত বর্ষা, চরম তাপমাত্রা এবং মাটির উর্বরতার পতন কৃষকদের আয়ে চাপ তৈরি করছে। শিল্প মহলের দাবি, বাজেটে পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি, মাইক্রো-ইরিগেশন, কার্বন-স্মার্ট ফর্মিং এবং ইনপুটের ওপর কর-রেয়াত ও ভর্তুকি বাড়ানো প্রয়োজন। এতে কেবল উৎপাদন খরচ কমবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে জমির স্বাস্থ্য বজায় থাকবে এবং জল সম্পদের ওপর চাপ কমবে।
ভারতের খাদ্যব্যবস্থায় পুষ্টি একটি ক্রমবর্ধমান অগ্রাধিকার। দুধ, ডিম, ডাল, মিলেট, ফল ও শাকসবজির চাহিদা বাড়লেও অনেক ছোট ও মাঝারি প্রক্রিয়াজাতকারী সংস্থা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বাজার ধরতে পারছে না। শিল্পের দাবি, বাজেটে মিলেট-ভিত্তিক পুষ্টিকর পণ্য, শিশুদের স্কুল মিল কর্মসূচি এবং মিড-ডে-মিল–এ স্থানীয় কৃষি পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে প্রণোদনা থাকা উচিত। পাশাপাশি, পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর পণ্য উৎপাদনকারী ও স্টার্টআপদের জন্য সহজতর ঋণ, কর ছাড় এবং বিপণন সহায়তা প্রয়োজন। এতে গ্রামীণ কৃষকদের আয় বাড়বে এবং খাদ্যব্যবস্থায় বৈচিত্র্য তৈরি হবে।
গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ কৃষিক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। বীজ প্রযুক্তি, কীটনাশক-ব্যবস্থাপনা, ড্রোন-ভিত্তিক নজরদারি, এআই–চালিত ফসল পূর্বাভাস এবং প্রিসিশন ফার্মিং–এর মতো উদ্ভাবন দ্রুত বাড়ছে। কৃষি সংস্থাগুলির দাবি, বাজেটে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং অ্যাগ্রি-টেক স্টার্টআপদের জন্য বিশেষ কর ছাড়, ইনোভেশন গ্র্যান্ট এবং পাইলট প্রকল্প ফান্ড তৈরি করা উচিত। এতে দেশীয় প্রযুক্তি বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমাবে এবং কৃষকদের মাঠে বাস্তব পরিবর্তন আনবে।
কৃষি শিল্প আরও চায় মূল্য স্থিতিশীলতা ও বাজার সংযোগে বড় নজর। অনেক কোম্পানি দাবি করছে যে ফুড প্রসেসিং সেক্টরকে “প্রাধান্য শিল্প মর্যাদা” দিলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিশাল বিনিয়োগ প্রবাহ আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬ কৃষি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। জলবায়ু সমস্যা কমানো, পুষ্টিকর খাদ্যপ্রবাহ বাড়ানো এবং আধুনিক প্রযুক্তিকে কৃষকের মাঠে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ভারত কৃষিক্ষেত্রে বিশ্বে নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারে। কৃষি শিল্পের প্রত্যাশা—এবার বাজেট শুধু ভর্তুকি নয়, বরং উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ নির্ভর কৃষি অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তুলবে।