• কসবা অনুপ্রাস নাট্যদলের উদ্যোগে ফের মঞ্চে ফিরে এল দমফাটা হাসির ফোয়ারা
    এই সময় | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • মুচকি হাসি থেকে দমফাটা হাসি— এমন হাসিতে কেউ করেনি মানা। সময় ও যুগের পরিবর্তনে যেন ছুটছে মানুষ, ছুটছে পৃথিবী। অনেক পিছনে পড়ে রইল হাসির রসদ ও রসায়ন। ষাট দশক থেকে নব্বইয়ের শেষ অবধি বড় পর্দা থেকে বাংলার রঙ্গমঞ্চে বাঙালিকে প্রকৃত হাসির রসদ জোগাতেন যাঁরা, তাঁরাও নেই, হাসিও নেই। সত্যি কথা বলতে কি বর্তমানে বাংলা থিয়েটারে সূক্ষ্ম হাস্যরসের বড় অভাব। বহুদিন পরে দমফাটা হাসি মঞ্চে ফিরিয়ে আনল কসবা অনুপ্রাস নাট্যদলটি। ‘কমেডিনামাইট’ শিরোনামে মধুসূদন মঞ্চে ২৩ জানুয়ারি সংস্থার তিনটি নাটকে। ‘নো অপশন’, ‘মোগলাই’ ও ‘চিনি ছাড়া লিকার’।

    পরশুরামের ‘অক্রূর-সংবাদ’ গল্পের সূত্রে ‘নো অপশন’ নাটকটি লিখেছেন এবং নির্দেশনা দিয়েছেন সৌভিক গঙ্গোপাধ্যায়। ষাটোর্ধ্ব অক্রূর বাবু প্রেমে পড়েছেন সদ্য স্বামী-হারা মৃণালিনী খাস্তগীরের। কিন্তু বড় বাধা। বিয়ে করতে হলে তার বড় ছেলেকে যে রাজি করাতে হবে। কী করবেন অক্রূরবাবু? সাবলীল অভিনয় করেছেন মনোজ মুখোপাধ্যায়, সৌভিক গঙ্গোপাধ্যায়, পৌলমী চট্টোপাধ্যায়, শুভজিৎ দাস, শ্রীময়ী মজুমদার প্রমুখ।

    ‘মোগলাই’ গল্পে দুই চরিত্র মাতিয়ে রাখে শুরু থেকেই। দুই বৃদ্ধ, দুই বন্ধু। প্রতিদিন তাঁরা পার্কে বসে আড্ডা মারেন। একদিন তাঁদের মেজাজ গেল বিগড়ে। কারণ আর কিছুই নয়, একটি মোগলাই। এটিরও নাট্যকার, নির্দেশক ও মূল চরিত্রে সৌভিক গঙ্গোপাধ্যায়। দ্বিতীয়জন হলেন বিজন চক্রবর্তী।

    তবে শেষ নাটক ‘চিনি ছাড়া লিকার’ যেন হাসির রেশকে আরও উস্কে দিয়েছে। সাফল্যের দাবি করতে পারেন নির্দেশক গার্গী দাশগুপ্ত। জনপ্রিয় লেখক বিমল করের ‘বিচিত্র প্রেম’ এই শেষ নাটকটির মূল উৎস বা প্রেরণা। অভিনয়ে অনুপ সাহা, শ্রীমতী মুখোপাধ্যায়, গার্গী দাশগুপ্ত, মৃন্ময় সাহা প্রমুখ।

    মঞ্চের এই হাসি আরও চিরস্থায়ী হোক, এটাই প্রত্যাশা।
  • Link to this news (এই সময়)