• ভারতের প্রত্যাঘাতে ভয় পেয়ে যায় পাকিস্তান, নিজেরাই চেয়েছিল সিজ়ফায়ার... ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বলছে সুইস রিপোর্ট
    এই সময় | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ বেজায় ঘাবড়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। ইসলামাবাদই সিজ়ফায়ার বা যুদ্ধবিরতির আর্তি জানায়। এমনই দাবি করেছে সুইৎজ়ারল্যান্ডের এক মিলিটারি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। তাদের রিপোর্ট বলছে, ২০২৫-এর ৭ মে থেকে ১০ মে-র মাঝে এই অপারেশনে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) পাকিস্তানকে ভালো মতোই কাবু করে ফেলেছিল। নাজেহাল হয়ে ব্যাপক ঘাবড়ে যায় ইসলামাবাদ। এর পরেই ১০ মে সিজ়ফায়ার চায় তারা। অর্থাৎ চার দিনেই কুপোকাত পাকিস্তান।

    ৪৭ পাতার এই রিপোর্ট তৈরি করেছে সেন্টার ফর মিলিটারি হিস্ট্রি অ্যান্ড পারস্পেক্টিভ স্টাডিজ় (CHPM)। রিপোর্টের টাইটেলে লেখা, ‘Operation Sindoor: The India-Pakistan Air War (7–10 May 2025)’। বিদেশে তৈরি এই রিপোর্টে বহু বিষয় বিস্তারিত আকারে উল্লেখ করা হয়েছে।

    রিপোর্ট অনুসারে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ যত এগিয়েছে, পাকিস্তানে আরও গভীরে হামলার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল। ভারতীয় বায়ুসেনাকে প্রত্যাঘাত করার শক্তি হারাচ্ছিল পাকিস্তানে বায়ুসেনা বা PAF। ১০ মে সকাল পর্যন্ত ভারতীয় বায়ু সেনার ব্রহ্মোস ও SCALP-EG মিসাইলের মতো অস্ত্র সাফল্য পেয়েছে। তাতেই হাত-পা কাঁপতে শুরু করে ইসলামাবাদের। কারণ, ততক্ষণে পাকিস্তানের সার্ভেইল্যান্স রেডার মুখ থুবড়ে পড়েছে। ভারতের S-400 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম নাকানিচোবানি খাইয়েছে পাক বায়ুসেনার এয়ারবোর্ন সিস্টেমকে।

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৭ মে রাতে ভারতীয় বায়ুসেনা দু’টি স্ট্রাইক করে। রাফাল ও মিরাজ-২০০০ ফাইটার জেটের লক্ষ্য ছিল বহওয়ালপুরে জৈশ-ই-মহম্মদের ডেরা ও মুরিদকের লস্কর-ই-তৈবার ঘাঁটি। একটি স্ট্রাইক পাকিস্তানি এয়ারস্পেসে মাটির অনেক কাছাকাছি থেকে চালানো হয়েছিল। সুইৎজ়ারল্যান্ডের রিপোর্ট যাকে বলছে, ‘পপ-আপ অ্যাটাক’। যার লক্ষ্য ছিল, পাকিস্তানকে জালে ফাঁসানো।

    রিপোর্ট অনুযায়ী, এর জবাবে পাকিস্তান ৩০টির বেশি লড়াকু বিমান পাঠায়, PL-15 মিসাইল দাগে। তাদের টার্গেট ছিল রাফাল।

    পাকিস্তান দাবি করেছিল, তারা ৬টি ভারতীয় এয়ারক্রাফ্ট শট ডাউন করে। কিন্তু সুইস রিপোর্ট বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সামনে রেখে বলছে, ভারতের একটি মাত্র রাফাল, একটি মাত্র মিরাজ-২০০০ ও একটি অন্য ফাইটার জেটের ক্ষতি হয়। সেটি MiG-29 বা Su-30MK হতে পারে। ভারত আগেই পাকিস্তানের দাবি খারিজ করে দিয়েছে।

    রিপোর্ট বলছে, ৭ মে থেকে পাকিস্তান ভারতের উপরে ড্রোন হামলা শুরু করে। প্রথমে ৩০০-র বেশি ড্রোন পাঠানো হয়। দ্বিতীয় ভাগে পাঠায় আরও ৬০০। একই সঙ্গে রকেট, ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ে। ভারতীয় সেনার ঘাঁটি, এয়ারবেস, লজিস্টিক্স হাব ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ছিল তাদের টার্গেট। কিন্তু করতে পারেনি কিছুই। রিপোর্টেই দাবি করা হয়েছে, বেশির ভাগই রুখে দেয় ভারতীয় বায়ুসেনা। জ্যামিং, স্পুফিং ও সেন্সর ফিউশন— এই তিন হাতিয়ারেই বেশির ভাগকে ঘায়েল করা হয়।

    রিপোর্টে ভারতীয় বায়ুসেনার ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম ও ভারতীয় সেনার আকাশতির নেটওয়ার্কের প্রশংসা করা হয়েছে। এই নেটওয়ার্কের ফলে রেডারকে শুধুমাত্র জরুরি পরিস্থিতিতেই সক্রিয় করা হয়েছে। তাই পাকিস্তান শত চেষ্টা করেও ভারতের ইলেক্ট্রনিক ব্যবস্থাকে ধরতেই পারেনি।

    ৯ মে থেকে ১০ মে রাতের মধ্যে পাকিস্তান হামলার চেষ্টা করে। টার্গেট ছিল S-400 সিস্টেম, এয়ারবেস আদমপুর, শ্রীনগর, কচ্ছ। তবে ভারতীয় সেনার ইলেক্ট্রনিক জ্যামিং ও লড়াকু বিমানের সাহায্যে সেই চেষ্টা ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়। পাকিস্তান দাবি করেছিল, তারা S-400-এর ক্ষতি করেছে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    এর পরেই ভারত জোরালো প্রত্যাঘাতে জবাব দেয়। ১০ মে রাত ২টো থেকে ভোর ৫টার মধ্যে বায়ুসেনা জোরদার মিসাইল ছোড়ে। টার্গেট ছিল, পাকিস্তানি এয়ারবেস, রেডার ইনস্টলেশন ও সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সাইট। এর পরে সকাল ১০টায় দাঁড়িয়ে থাকা বিমানগুলিকে টার্গেট করে। একাধিক পাকিস্তানি এয়ারবেস নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। ধ্বংস হয় রানওয়ে ও হ্যাঙ্গার।

    ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তানের ৪-৫টি লড়াকু বিমান নামায়। একটি এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং এয়ারক্রাফ্ট, একটি ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট, একাধিক ড্রোন, একাধিক রেডার, কমান্ড সেন্টার ও সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যাটারি ছিল। পাকিস্তান তাদের একটি এয়ারবেসে ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকারও করেছিল।

    এর পরে ১০ মে দুপুরে পাকিস্তানি সেনা কর্তৃপক্ষ সিজ়ফায়ার চায়, যা মেনে নেয় ভারতও। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসের পরিকাঠামো ধ্বংস করে, পাকিস্তানের আকাশপথে হামলাকে নস্যাৎ করে ভারত নিজের রাজনৈতিক ও সেনাবলের দক্ষতার প্রমাণ রাখে।

    ‘Operation Sindoor: The India-Pakistan Air War (7–10 May 2025)’ রিপোর্টটি সুইস সামরিক ইতিহাসবিদ Adrien Fontanellaz-এর, অনুবাদ করেন Benedict Smith। যিনি ভারতে ফ্রান্সের ডিফেন্স অ্যাটাশে ছিলেন। এর রিভিউ প্যানেলে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সুইস এয়ার ফোর্স মেজর জেনারেল, সুইস আর্ম ফোর্সের প্রাক্তন চিফ অফ স্টাফ, একজন ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজিস্ট, পলিটিক্যাল সায়েন্টিস্ট ও একজন অন্তঃরাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ও হাতিয়ার নীতি বিশেষজ্ঞ।

  • Link to this news (এই সময়)