• পাঁচিল টপকে ফাঁসিডাঙা উদ্যানে ঢুকে বামেদের পতাকা উত্তোলন, সরব তৃণমূল
    এই সময় | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জমেছে আগাছা। দু’বছর ধরে তালাবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী ফাঁসিডাঙা উদ্যান। সোমবার প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন গেট, পাঁচিল টপকে ভিতরে প্রবেশ করে ফাঁসির মঞ্চে শ্রদ্ধা জানালেন বাম সংগঠনের নেতা, কর্মীরা। ঐতিহাসিক ফাঁসির মঞ্চে দলীয় পতাকা লাগানো হয় বলেও অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। অন্য দিকে, ঐতিহাসিক ফাঁসিডাঙা উদ্যানের দুরাবস্থা নিয়ে পাল্টা সরব বামেরা।

    এ দিন ঐতিহ্য যাত্রা কর্মসূচি পালন করে এসএফআই-ডিওয়াইএফআই। ঘাটালের বীরসিংহ বিদ্যাসাগরের জন্মভূমি থেকে একটি বাইক র‍্যালি চন্দ্রকোণার ফাঁসিডাঙা উদ্যানে পৌঁছয়। সেখানে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্য যাত্রার সভা। উপস্থিত ছিলেন বাম যুব-ছাত্র সংগঠনের নেতা, কর্মীরা। ডিওয়াইএফআই জেলা সভাপতি কৌশিক দে, এসএফআই জেলা সম্পাদক রণিত বেরা। সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডিওয়াইএফআই প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভয় মুখোপাধ্যায়, সিপিআইএম পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক বিজয় পাল।

    চুয়াড় বিদ্রোহের নায়ক যুগল কিশোর-সহ ১৪ জন বিদ্রোহীকে এই ফাঁসিডাঙার ফাঁসির মঞ্চে ঝুলিয়েছিল তৎকালীন ইংরেজ শাসকরা। প্রথমে ফাঁসিডাঙা উদ্যানের বাইরে গেটের সামনে ফুল মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় ফাঁসিডাঙায় ইংরেজ শাসকের হাতে শহিদ হওয়া চুয়াড় বিদ্রোহের নায়কদের। এর পরে পাঁচিল টপকে প্রবেশ করে ফাঁসিডাঙা উদ্যানের ভিতরেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। ডিওয়াইএফআই জেলা সভাপতি কৌশিক দে বলেন, ‘সরকারি জায়গায় একটি ঐতিহাসিক স্থানে প্রজাতন্ত্রের দিন দেশের জাতীয় পতাকা ছেঁড়া অবস্থায় অর্ধনমিত থাকাটাও বিতর্কের। এটিও জাতীয় পতাকার ও দেশের অপমান। দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব কর্তব্যর মধ্যে পড়ে সেটিকে সম্মান জানানো।’

    বাম যুব সংগঠনের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সভাপতি কৌশিক দে বলেন, ‘বিদ্যাসাগরের জন্মভিটা থেকে চন্দ্রকোনায় চুয়াড় বিদ্রোহের নায়কদের শ্রদ্ধা জানাতে ঐতিহ্য যাত্রা করে আমরা এসেছিলাম ফাঁসিডাঙায়। এখানে এসে দেখি গেট বন্ধ। ভিতরে ফাঁসির মঞ্চে দেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত অবস্থায় ছিল। সংগঠনের পক্ষ থেকে আগাম জানানো সত্বেও গেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। আমরা পাঁচিল টপকে ভিতরে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা তুলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করি। প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন দেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছে তৃণমূল ও তার প্রশাসন।’

    অন্য দিকে, ভিতরে দলীয় কর্মসূচি করা ও ঐতিহাসিক ফাঁসির মঞ্চে দলের পতাকা লাগানোর ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের চন্দ্রকোনা-২ ব্লকের সভাপতি ছায়া দোলই বলেন, ‘ঐতিহাসিক স্থানে যে কেউ যেতে পারেন তাতে বাধা-বিপত্তির কিছু নেই আমাদের। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল তাঁদের কর্মসূচির নামে ফাঁসিডাঙার মতো ঐতিহাসিক ফাঁসিমঞ্চে তাঁদের দলের পতাকা টাঙাবে এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই আমরা। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ছিল বলা হচ্ছে তা ঠিক নই, ওরা ওদের মতো করে বলছে।’

  • Link to this news (এই সময়)