• বাবার মৃত্যুশোকই জুগিয়েছিল শক্তি! ১২০০ মানুষকে নতুন জীবন দিয়ে ‘পদ্মশ্রী’ নীলেশ
    এই সময় | ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • দীর্ঘ দুই দশক ধরে অঙ্গদান নিয়ে নিরলস কাজ করে চলেছেন গুজরাটের সুরাটের নীলেশ মান্ডলেওয়ালা। তাঁর এই অদম্য লড়াই আর মানবসেবার স্বীকৃতি দিল ভারত সরকার। এ বছর তিনি পেলেন দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান, ‘পদ্মশ্রী’। তাঁর উদ্যোগে ১,২০০-র বেশি মানুষ শুধু নতুন জীবন পাননি, সুরাটে অঙ্গদান আন্দোলনের এক নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছে বলা চলে।

    নীলেশের যাত্রাপথটা মোটেও সহজ ছিল না। শুরুটা হয়েছিল ব্যক্তিগত জীবনের এক কঠিন অভিজ্ঞতা থেকে। ১৯৯৭ সালে তাঁর বাবার কিডনি বিকল হয়ে যায়। সে সময়ে বাবার অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য তাঁর পরিবারকে দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছিল। যা নাড়িয়ে দিয়েছিল নীলেশকে।

    ২০১১ সালে বাবার মৃত্যুর পরে তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, অঙ্গদান সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলবেন। সেই লক্ষ্যেই ২০০৫ সালে তিনি প্রচার শুরু করেন এবং পরে ‘ডোনেট লাইফ’ নামে এক প্রতিষ্ঠানও স্থাপন।

    ২০০৬ সালে সুরাটে প্রথম এক ‘ব্রেন ডেড’ রোগীর পরিবারকে অঙ্গদানে রাজি করিয়েছিলেন নীলেশ। তাঁর এই প্রচেষ্টায় গুজরাটে অঙ্গদানের হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে তাঁর ‘ডোনেট লাইফ’-এর প্রচেষ্টায় গত ২০ বছরে সুরাটে ১,৩৬৬টি অঙ্গ ও টিস্যু দান সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫৫১টি কিডনি, ২৪০টি লিভার, ৫৭টি হার্ট, ৫৬টি ফুসফুস এবং ৪৪২টি চোখ। এর ফলে নতুন জীবন পেয়েছেন ১,২৫৮ জন মুমূর্ষু রোগী।

    গুজরাট সরকার ২০২০-২১ সালে তাঁকে রাজ্যের ট্রান্সপ্ল্যান্ট কমিটির সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করে। এতদিন নানা সম্মানে ভূষিত হলেও, পদ্মশ্রী সম্মান তাঁর এই দীর্ঘ লড়াইয়ের সেরা স্বীকৃতি। এই সম্মান তিনি অঙ্গদাতা, ডাক্তার, হাসপাতাল, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের উৎসর্গ করেছেন।

  • Link to this news (এই সময়)