আজকাল ওয়েবডেস্ক: সেবাশ্রয় প্রকল্প আগেই চালু করেছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি। সেই সেবাশ্রয়ের দ্বিতীয় পর্ব চলছে। আর সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবসের দিন সেবাশ্রয়ের শিবিরে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালেন অভিষেকের স্ত্রী রুজিরা। একেবারে সাধারণের সঙ্গে মিশে বাকি সকলের মতো নিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করান রুজিরা।
প্রসঙ্গত, সোমবার ডায়মন্ড হারবার এসডিও মাঠে সেবাশ্রয়ের মডেল ক্যাম্পে গিয়েছিলেন রুজিরা। এবারই প্রথম স্বাস্থ্য পরিষেবা শিবিরে সশরীরে উপস্থিত হলেন রুজিরা। বেশ কিছুক্ষণ শিবিরে ছিলেন তিনি। এটা ঘটনা, এবারই প্রথম ডায়মন্ড হারবারের মডেল ক্যাম্পটি দোতলা করে গড়ে তোলা হয়েছে।
‘আমি তোমাদেরই লোক, আর কিছু নয়, এই হোক শেষ পরিচয়...’। রবিবার ডায়মন্ড হারবারে মডেল সেবাশ্রয় স্বাস্থ্য শিবিরে গিয়ে এই বার্তাই তুলে ধরেন রুজিরা। এটা ঘটনা, ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র জুড়ে ধারাবাহিকভাবে আয়োজিত ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য উদ্যোগের অগ্রগতি দেখতে তিনি সোমবার পৌঁছে যান ডায়মন্ড হারবারের এসডিও গ্রাউন্ডে চলা মেগা ক্যাম্পে।
ইতিমধ্যেই সাতটি বিধানসভা এলাকায় পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হয়েছে ‘সেবাশ্রয়’ শিবির। বর্তমানে ডায়মন্ড হারবারে চলছে এই বৃহৎ স্বাস্থ্য পরিষেবা কর্মসূচি, যেখানে দূর–দূরান্ত থেকে সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন। সোমবার বেলা বাড়তেই রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে পৌঁছে দোতলা বিশাল পরিকাঠামোর প্রতিটি অংশ ঘুরে দেখেন। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কথা বলে পরিষেবার খোঁজখবর নেন।
শুধু আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন নয়, রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতাও শোনেন তিনি। অনেকেই জানান, এক জায়গায় এত উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ায় তাঁদের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষ এই উদ্যোগে স্বস্তি ও আস্থা প্রকাশ করেন। রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও রবিবার মডেল সেবাশ্রয় শিবিরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। আয়োজকদের মতে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তাও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ডায়মন্ড হারবারের এই ‘সেবাশ্রয়’ কার্যত নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে বলেই মত স্থানীয়দের। শুধু নামেই নয়, বাস্তব পরিকাঠামোতেও এটি এক নজিরবিহীন মডেল ক্যাম্প। এই প্রথম এসডিও মাঠে তৈরি হয়েছে দোতলা স্বাস্থ্য শিবির, যা এর আগে কোথাও দেখা যায়নি। রয়েছে সম্পূর্ণ আইসিইউ পরিকাঠামোও। সোমবার পর্যন্ত সেই আইসিইউ–তে তিনজন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে শিবির সূত্রে জানা গেছে।
মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ যে সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট শিবিরে উপচে পড়া ভিড় দেখেই।
এটা ঘটনা, স্বামীর কর্মসূচিতে বড় একটা দেখা যায় না স্ত্রী রুজিরাকে। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা–সহ কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে বঞ্চনার প্রতিবাদে দিল্লিতে অভিষেকের নেতৃত্বে তৃণমূলের কর্মসূচি হয়েছিল। সেখান থেকে কলকাতায় ফিরেই রাজভবন অভিযান করেছিলেন অভিষেক। সেই সময়ে রাজ্যপাল ছিলেন উত্তরবঙ্গে। রাজ্যপালের দেখা না পেয়ে রাজভবনের অদূরে রেডক্রস প্লেসে ধর্না শুরু করেছিলেন অভিষেক। যেদিন সন্ধেয় অভিষেক ধর্না শুরু করেছিলেন, সেদিনই সেখানে এসে স্বামীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন রুজিরা। কিছুক্ষণ থেকে ফিরে গিয়েছিলেন বাড়িতে। এরপর সোমবার রুজিরাকে দেখা গেল অভিষেকের সংসদীয় এলাকা ডায়মন্ড হারবারের সেবাশ্রয় শিবিরে।