• আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুমিছিল, নিখোঁজ ২০
    আজকাল | ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: আনন্দপুরের পরপর গুদামে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুমিছিল আরও বাড়ল। সোমবার সন্ধ্যার পর আরও একাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনও বহু শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। 

    পুলিশ সূত্রের খবর, নাজিরাবাদের দু'টি গুদামে আগুন লেগে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু, তাঁদের এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এদিকে গুদামের ভিতরে এখনও আগুন জ্বলছে। আগুন লাগার পর থেকেই নিখোঁজ ২০ জন শ্রমিক। ওই ২০ জনের নামে নিখোঁজের মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

    আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রায় ১৩ জন নিখোঁজ বলে এখনও পর্যন্ত চিহ্নিত করা গিয়েছে। সোমবার প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে মর্মান্তিক এমন ঘটনার খবরে রীতিমতো আতঙ্কের ছায়া নেমে আসে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও শুরু হয় তৎপরতা। প্রায় দিনভর নিখোঁজ ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শোকার্ত পরিবারের পাশে সমস্ত রকমের সহযোগিতার বার্তা দিয়ে এসেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। 

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ার শ্রীকৃষ্ণ মাইতি, বাপন মাঝি, সমরেশ পথিকর, তপন দোলুই, ময়নার বুদ্ধদেব জানা, সৌমিত্র মণ্ডল, তমলুক ব্লকের দেবাদিত্য দিন্দা, বিমল মাইতি, গোবিন্দ মণ্ডল, রামপদ মণ্ডল, ক্ষুদিরাম দিন্দা, শশাঙ্ক জানা, এছাড়াও নন্দকুমারের গড়গোদা এলাকার বাসিন্দা সন্দীপ মাইতি সহ মোট ১৩ জন এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসক ইউনিস ঋষীন ইসমাইল এ তথ্য জানিয়েছেন। 

    বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার শুভেন্দ্র কুমার জানান, "এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একাধিক শ্রমিক নিখোঁজ। নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বাকিদের এখনও পর্যন্ত শনাক্তকরণ করা যায়নি।" আহতদের কলকাতা এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বহু শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে অনুমান। 

    তিনি আরও জানিয়েছেন, দমকল কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার পর গোডাউনের মধ্যে প্রবেশ করবেন দমকল কর্মীরা এবং পুলিশ কর্মীরা। আটকে যাওয়া শ্রমিকদের উদ্ধারের কাজ চালানো হবে। 

    ১১ ঘণ্টা ধরে দমকলের ১৬টি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজ করছে। সোমবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে আসেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনি জানান, "আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও এখনও পর্যন্ত কিছু কিছু পকেট ফায়ার রয়েছে। গোডাউনের ভিতর থেকে এখনও ধোঁয়া বেরোচ্ছে। দমকল কর্মীরা পুরোদমে চেষ্টা করছেন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য। কালো ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন দমকল কর্মীরা। কিছুক্ষণেই গোডাউনের মধ্যে প্রবেশ করবেন দমকল কর্মীরা। গোডাউনের মধ্যে যদি নিখোঁজ শ্রমিকেরা আটকে থাকেন, তাঁদেরকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। ১৬ জন শ্রমিক এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ। তাঁদের সন্ধান শুরু করা হয়েছে।' 

    তিনি আরও জানিয়েছেন, ফরেন্সিক টিম ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করবে। গোডাউনের মধ্যে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা ঠিক ছিল কিনা সে বিষয়ক খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে আসেন যাদবপুর লোকসভার সংসদ সায়নী ঘোষ। এছাড়াও উপস্থিত হন সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়িকা ফিরদৌসী বেগম। 

    প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, রাতে কারখানায় আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা দমকলে খবর দেন। দ্রুত ইঞ্জিন পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, কিছুই করে উঠতে পারছিলেন না কেউ। ভোরের দিকে খানিকটা নিয়ন্ত্রণে আসে। এদিকে, নিখোঁজ ছয় কর্মীর পরিবারের লোকজন জানান, তাঁরা ফোনে পাচ্ছেন না কাউকে। একজনের ফোন বেজে যাচ্ছে। তিনি ধরছেন না। ভিতরে আটকে আছেন না পালিয়ে গেছেন আগুন লাগার সময়, তা বোঝা যাচ্ছে না।
  • Link to this news (আজকাল)