একের পর এক পোড়া দেহ, অগ্নিকাণ্ডে আরও কত মৃত্যু আনন্দপুরে? স্বজনহারাদের হাহাকার
আজ তক | ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
এখনও জ্বলছে আনন্দপুরের একটি শুকনো খাবারের গুদাম। পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার নামই নেই। ভোররাত থেকে লাগা ওই অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু বাড়ছে লাফিয়ে। এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলছে। এখনও অনেকে নিখোঁজ। আর এই খবর পেয়ে এ দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিলেন টালিগঞ্জের বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস। তবে এখনও দেখা মেলেনি দমকলমন্ত্রী সুজিত বোসের। ঘটনাস্থলে গিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষও।
কী জানা যাচ্ছে?
সোমবার ভোর ৩টে নাগাদ লাগে আগুন। তারপর থেকে জ্বলছে সেই শুকনো খাবারের গুদাম। দমকলের ১২টির বেশি ইঞ্জিন লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার। তবে এখনও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। জেসিবি দিয়ে সরিয়ে খোঁজা হচ্ছে দেহ। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখন ৭ জের দেহ উদ্ধার হয়েছে। পরিবারের কান্নার রোল। গোটা দেশ যখন সাধারণতন্ত্র দিবসে মগ্ন, তখন আনন্দপুরে স্বজনহারাদের কান্না। এখনও অনেকে নিখোঁজ। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা।
আর এমন পরিস্থিতিতে সেখানে পৌঁছে যান বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস। তিনি সেখানে গিয়ে কথা বলেন নিখোঁজ কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। তিনি তাঁদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কাটান। তারপর অনেক কিছু লিখে নেন একটি কাগজে। এরপরই সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন মন্ত্রী।
এলাকা থেকে বেরিয়ে আসার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে সামান্য কথা বলেন তিনি। সেখানে তাঁকে বলত শোনা যায়, 'স্বজন হারানোর যন্ত্রণায় ওনারা দগ্ধ।'
কীভাবে লাগল আগুন?
এই বিষয়টা সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, মধ্যরাতে গুদামে ধোঁয়া দেখতে পাওয়া যায়। মোটামুটি ওই রাত ৩টে নাগাদ। আর তখন গুদামে ডিউটিতে ছিলেন বেশ কিছু কর্মী। এরপর সেখানে আসে দমকল। তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এখনও পুরোপুরি তা নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আর এমন পরিস্থিতিতে আশঙ্কায় রয়েছেন নিখোঁজদের পরিবারগুলি। তাঁরা জানতে চাইছেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের খবর ঠিক কী? যদিও এখনও সেই বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি।
বর্তমানে অবশ্য গুদামের অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা নিয়ে হাজার প্রশ্ন উঠছে। সেখানে আগুন নেভানোর যথাযথ ব্যবস্থা ছিল কি না বা ফায়ার এক্সিট ছিল কি না, সেটা খুঁজছে দমকল। যদিও এই বিষয়গুলি নিয়ে তাঁরা এখনই কিছু বলতে নারাজ। আগুন নেভার পরই তাঁরা এই বিষয়টা নিয়ে তদন্ত করবে। তারপরই নিশ্চিত করে কিছু জানান যাবে। যদিও এই ঘটনার জন্য তৃণমূল সরকারকে দায়ী করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, 'সরকার ছুটি কাটাচ্ছে, সরকার না থাকলে যা হয়।'