• তৃতীয় সারিতে আসন থেকে উত্তরীয় বিতর্ক, প্রজাতন্ত্র দিবসে রাহুল গান্ধীকে নিয়ে কংগ্রেস-বিজেপির ধুন্ধুমার
    এই সময় | ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • দিল্লির কর্তব্য পথে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছে ভারতীয় সেনা। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারীর রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে রাজপথ। ঠিক সেই সময়ে এই সব কিছু ছাপিয়ে জন্ম নিল এক রাজনৈতিক বিতর্ক। প্রোটোকল নিয়ে কংগ্রেস আর বিজেপির মধ্যে তীব্র দড়ি টানাটানিতে সরগরম হয়ে থাকল প্রজাতন্ত্র দিবস।

    বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দু’টি ঘটনা। প্রথমটি ঘটে সকালে কুচকাওয়াজের সময়ে, অন্য ঘটনাটি সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে। কংগ্রেসের অভিযোগ, কর্তব্য পথে কুচকাওয়াজের সময়ে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে তৃতীয় সারিতে বসতে দেওয়া হয়। অথচ বিজেপির নেতারা বসেন সামনের সারিতে। বিরোধী দলনেতাকে অনেক সময়ে ‘শ্যাডো প্রধানমন্ত্রী’-র সমতুল্য ধরা হয়। তাঁর সঙ্গে এই ঘটনা গণতান্ত্রিক রীতি ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিরোধীদের মর্যাদা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল বলেই মনে করছেন অনেকে।

    বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সুরজেওয়ালা প্রশ্ন তোলেন, ‘গণতন্ত্রে মতভেদ থাকবেই। কিন্তু রাহুল গান্ধীর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা কখনওই কাম্য নয়।’ এই ঘটনাকে ‘প্রোটোকল এবং সৌজন্যের চরম অভাব’ আখ্যা দেন কংগ্রেস নেতা বিবেক তনখা। তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলনেতাকে পিছনের সারিতে বসানো কোনও ব্যক্তিকে অপমান নয়, গোটা দেশের লজ্জা।’

    এর জবাবে ‘টেবিল অফ প্রিসিডেন্স’-এর (দেশের সাংবিধানিক বা সরকারি মর্যাদাক্রমের তালিকা) উদাহরণ টানেন বিজেপির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা। তিনি বলেন, ‘আসন নির্ধারণের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। রাহুল গান্ধীর আশপাশে এমনকী পিছনেও অনেক সিনিয়র মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু তাঁরা কেউ বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেননি।’ এর পরেই পরিবারবাদের রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেন তিনি, ‘কংগ্রেসের নেতারা মানুষের স্বার্থের থেকেও নিজের অহংকার, পদমর্যাদাকে বেশি গুরুত্ব দেন।’

    বিতর্ক এখানেই থামেনি। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে ‘অ্যাট হোম’ সংবর্ধনায় তা আরও তীব্র হয়। অনুষ্ঠানে উত্তর-পূর্ব ভারতের ট্রেড মার্ক উত্তরীয় ‘পাটকা’ উপহার দেওয়া হয়। অধিকাংশ অতিথিই সেটি গলায় পরে নেন। কিন্তু বিজেপির অভিযোগ, রাহুল গান্ধী পরেননি। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু নিজে তাঁকে উত্তরীয় পরার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু বিরোধী দলনেতা রাজি হননি বলে অভিযোগ বিজেপির।

    কংগ্রেস অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। পাল্টা দু’টি ছবি সামনে এনেছে তারা। তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের গলাতেও উত্তরীয় নেই। কংগ্রেস সাংসদ মানিকম টেগোর বলেন, ‘আপনাদের সস্তা রাজনীতিতে রাষ্ট্রপতিকে টেনে আনা বন্ধ করুন।’

  • Link to this news (এই সময়)