‘লড়াই করতে হবে যুদ্ধের বিরুদ্ধে, সামরিক শক্তি সমাধান নয়’, কলকাতায় এসে বললেন কিউবার রাষ্ট্রদূত
বর্তমান | ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
সোহম কর, কলকাতা: ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেজ এখন আমেরিকার হাতে বন্দি। সেই অপারেশন খুব একটা মসৃণ ছিল না আমেরিকার জন্য। হুগো শ্যাভেজের ভেনিজুয়েলাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছিল ফিদেল কাস্ত্রোর কিউবা। কিউবা প্রশাসনের দাবি, প্রায় ৩০০ জনকে হত্যা করে তাঁদের রক্তদের উপর দিয়ে মাদুরোকে তুলে নিয়ে গিয়েছে আমেরিকা। কিন্তু কিউবা মাথা নোয়াবে না। তারা মনে করে, যুদ্ধ শেষ কথা নয়, সম্প্রতি কলকাতায় এসে এমনই বলে গেলেন ভারতে কিউবার অ্যাম্বাসাডর জুয়ান কার্লোস মারসন।সম্প্রতি এআইপিএসও (অল ইন্ডিয়া পিস অ্যান্ড সলিডারিটি অর্গানাইজেশন) ও ফোলা-ইন্ডিয়া (ফ্রেন্ডস অব ল্যাটিন আমেরিকা)র উদ্যোগে কলকাতার হরেকৃষ্ণ কোঙার ভবনে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘ল্যাটিন আমেরিকায় মার্কিন আগ্রাসন’ শীর্ষক বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন কিউবার রাষ্ট্রদূত জুয়ান কার্লোস মারসন ও ভারতের কিউবার এম্বাসির প্রথম সম্পাদক (সাংস্কৃতিক বিভাগের ইনচার্জ) অধ্যাপক মাইকি ডয়াজ পেরেজ। জুয়ান তাঁর বক্তব্যে বারবার বলেন, সাম্রাজ্যবাদ যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে তা এখনই প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি তাঁর দীর্ঘ আলোচনায় বলেন, ‘কিউবা স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক। তা এখানে এসে অনুভব করতে পারছি।’ ভেনিজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসন প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘আন্তর্জাতিক নিয়ম ভেঙে আমেরিকা যা করছে, এটা এখনই আটকানো না গেলে তা পৃথিবীর জন্য বিপজ্জনক। আমাদের আরও শক্তিশালী হতে হবে। ভেনিজুয়েলার কারাকাস থেকে মাদুরোকে যেভাবে অপহরন করা হল, তা সৌজন্য বিরোধী।’ তাঁর আহ্বান, পৃথিবীর সমস্ত শান্তিকামী মানুষকে একসঙ্গে ৩ জানুয়ারির ওই অপহরনের নিন্দা করতে হবে। জুয়ানের দাবি, ‘মাদুরোকে রক্ষা করতে গিয়ে মার্কিন আক্রমণে প্রায় ৩০০ জন মারা গিয়েছেন। কিউবা দীর্ঘদিন সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের শিকার। আপনারা জানেন, চে গেভারাকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে। ফিদেলকে কতবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।’ জুয়ানের ব্যাখ্যা, ‘আমেরিকার প্রবল হুমকির পরেও মাদুরো স্থির ছিলেন। তিনি জনগনকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করছিলেন। তিনি সাম্রাজ্যবাদের পুতুল হতে চাননি।’ তাহলে কিউবা কী চায়? জুয়ানের বক্তব্য, ‘কিউবা নিজে স্বাধীন, অন্যকে স্বাধীন থাকতে উদ্বুদ্ধ করে। কিউবা চায় দীর্ঘকালীন সংলাপের মাধ্যমে বিষয়গুলির অবসান। সামরিক শক্তি সমাধান হতে পারে না। যুদ্ধের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। সকলকে এক থেকে শান্তির পক্ষে যুদ্ধ জারি রাখতে হবে।’