বাগজোলা খালে দেদার ফেলা হচ্ছে আবর্জনা, পুরসভার সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন
বর্তমান | ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: ফের খোলা ডাস্টবিনের রূপ নিয়েছে বাগজোলা খাল। দক্ষিণ দমদমে হনুমান মন্দির পাশে থেকে যশোর রোডের ব্রিজ পর্যন্ত কয়েকশো মিটার খালের দু'পাড় আবর্জনায় ভরে গিয়েছে। আশপাশের বাসিন্দারা গৃহস্থালির ব্যবহার্য সামগ্রী খালে এসে ফেলছেন। খালে প্লাস্টিক সহ নানান আবর্জনায় ভরে উঠেছে। পুরসভার নজরদারি কার্যত শিকেয় উঠেছে। উত্তর শহরতলির কামারহাটি, বরানগর, দক্ষিণ দমদম পুরসভার বিস্তীর্ণ এলাকার জল বের হওয়ার অন্যতম ভরসা বাগজোলা খাল। আবর্জনার কারণে খাল নাব্যতা হারিয়ে মজে গিয়েছে। ফলে বর্ষার সময় খাল সংলগ্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। প্রত্যেক বছর নতুন নতুন এলাকা জলমগ্ন হচ্ছে। নোংরা জল বাড়িতে ঢুকে নাভিশ্বাস তুলছে সাধারণ মানুষের। শহরবাসীর অভিযোগ, খাল লাগোয়া পুরসভাগুলির গা ছাড়া মনোভাবের জন্য এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ দমদম পুরসভা এলাকার খাটালের খড়, গোবর সহ নানান আবর্জনা সরাসরি খালে এসে পড়ছে। খাল লাগোয়া এলাকার বিভিন্ন আবাসনের বাসিন্দাদের মতো স্থানীয়রা পলিব্যাগে আবর্জনা ভরে খালে ফেলছে। দমদম রোডের হনুমান মন্দির থেকে যশোর রোডের ব্রিজ পর্যন্ত খালের দুই দিক কার্যত খোলা ডাস্টবিনের রূপ নিয়েছে। অথচ, পুরসভার কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ। যদিও মজে যাওয়া বাগজোলা খালের স্বাস্থ্য ফেরাতে পরিকল্পনার কোনও অভাব নেই। মাজেমধ্যেই আধিকারিকরা পরিদর্শন করছেন। বিভিন্ন ড্রেনের মুখে লকগেট লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ হয়েছে কয়েক কোটি। কিন্তু খালে আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও পুরসভার সক্রিয়তা আজও সেই তিমিরে। দক্ষিণ দমদম পুরসভার সিআইসি(স্বাস্থ্য) সঞ্জয় দাস বলেন, খালে আবর্জনা ফেলা রুখতে নিয়মিত নজরদারি করা হয়। রাতের অন্ধকারে অনেকেই খালে ময়লা ফেলছেন। খালে আবর্জনা ফেলা রুখতে কড়া পদক্ষেপের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে।