সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: মাত্র তিনটে থানা এলাকাতেই এক সপ্তাহে তিনটে খুনের ঘটনা ঘটলো বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। যাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। নোয়াপাড়া থানা এলাকায় কাকার হাতে ভাইপো খুন হয়েছে। আবার ওই থানা এলাকাতেই শ্যামনগর ২২ নম্বর রেলগেটের কাছে মদ্যপ যুবকের হাতে বিরজু বাসফোর নামে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। সরস্বতী পূজার দিন দুপুরে জগদ্দল এর মেঘনা মোড়ের কাছে চোর সন্দেহে পিটিয়ে খুন করা হলো গারুলিয়ার যুবককে। পরপর খুনের ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। এর আগে ভাটপাড়ায় দিবালোকে গুলি চালায় বাবুসোনা বাহিনী। সেই ঘটনায় বাবুসোনা সহ তার গ্যাঙের সকলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই থেকে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে ভাটপাড়া থানা গত এক মাসে ১৩ টি অস্ত্র, একুশ টি কার্তুজ, ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যার মধ্যে একজন মহিলা রয়েছে। বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধার শর্মা তাঁর অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছেন, কেউ কোন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকলে, তিনি যে রাজনৈতিক দলের লোক হোন না কেন ছাড়া হবে না। ইতিমধ্যে ভাটপাড়ায় গুলি চালানোর ঘটনায় নৈহাটির এক শ্রমিক নেতাকে সাত ঘন্টা ভাটপাড়া থানায় বসিয়ে রাখা হয়েছিল। আবার জগদ্দলে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে তৃণমূল কাউন্সিলার সুনিতা সিংয়ের ছেলে নমিত সিংহের খোঁজে গারুলিয়ার তৃণমূল কাউন্সিলার নান্নে সিং এর বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ বাহিনী। এই সমস্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানোতোর শুরু হয়েছে। প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতির জন্য এক সপ্তাহে তিনটে খুনের ঘটনা ঘটল। পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেবে না এই সমস্ত দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে। বারাকপুরে গুন্ডারাজ এখনো যে বন্ধ হয়নি এটাই তার প্রমান। এই বক্তব্যকে খন্ডন করেছেন বর্তমান সাংসদ পার্থ ভৌমিক। তিনি বলেন, ঘটনা একদম যে পুরো বন্ধ হয়ে গেছে, তা বলবো না। আগে কিছু ঘটলে কেউ ধরা পড়তো না। এখন কোন ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দোষী ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়। এটাই আগের সময়ের সঙ্গে এখনকার সময়ের পার্থক্য।এ ব্যাপারে বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলিধর শর্মা জানিয়েছেন, তিনটি ঘটনা ঘটেছে ঠিকই, তার মধ্যে একটি পারিবারিক। প্রতিটি ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। কোন ক্ষেত্রেই কেউ ছাড় পাবে না। দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় অভিযান চলছে এবং চলবে।