অস্তিত্ব যাচাই করতে এবার শতায়ু রেশন গ্রাহকদের বাড়ি যাবে খাদ্য দপ্তর
বর্তমান | ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: শতায়ু রেশন গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ করার উপর বিশেষ জোর দিয়েছে খাদ্য দপ্তর। খাদ্য দপ্তরের সাম্প্রতিক পর্যালোচনা বৈঠকের রিপোর্টে এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগেও এই বিষয়টি জেলা খাদ্য দপ্তরের কর্তৃপক্ষদের জানানো হয়েছিল। কিন্তু কাজ যে বিশেষ এগোয়নি সেটা বলা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে শতায়ু রেশন গ্রাহকদের অস্তিত্ব আছে কিনা তা যাচাই করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। কারণ খাদ্য দপ্তর মনে করছে অনেক শতায়ু বা ১০০ বছরের বেশি বয়সী রেশন কার্ড গ্ৰাহক আছেন যাদের এখন কোন অস্তিত্ব নেই। কিন্তু তাদের কার্ডগুলি সক্রিয় আছে। ওই কার্ড ব্যবহার করে খাদ্য সামগ্রী তোলা হচ্ছে। কো ন ও পরিবারের একজন সদস্য রেশন দোকানে গিয়ে তার আধার নম্বর বায়োমেট্রিক যাচাই করে পরিবারের সবার জন্য বরাদ্দ খাদ্য তুলতে পারেন। তাই একশ বছরের বেশি বয়সী কোন রেশন গ্রাহকের অস্তিত্ব না থাকলেও তার জন্য বরাদ্দ খাদ্য তুলে নেওয়া হতে পারে এমন সম্ভাবনা থাকছে।। এই কারণেই বিশেষ পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন রেশন গ্রাহকের মৃত্যু হলে তার ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করার ক্ষেত্রে আগে রেশন কার্ড জমা দিতে হয়। পুরসভা ও পঞ্চায়েত গুলি এই প্রক্রিয়াটি করে থাকে। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে এই নিয়মটি ঠিকমতো মানা হয় না এরকম সম্ভাবনা আছে বলে মনে করছেন খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। তাই মৃত রেশন গ্রাহকের বরাদ্দ যাতে বন্ধ করা যায় তার জন্য বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রেশন গ্রাহকদের সংক্রান্ত আরো কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে জেলা খাদ্য দপ্তরের অধিকারীদের। বহু পরিবারের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে প্রত্যেকের বয়স ১৮ বছরের কম। এটিও স্বাভাবিক নয় খাদ্য দপ্তর মনে করছে। কারণ একটি পরিবারে শুধু ১৮ বছরের কম বয়সীরা থাকবে এটা সাধারণত হয় না। তাই এই ক্ষেত্রেও বাড়ি গিয়ে যাচাই করতে বলা হয়েছে।যেসব অন্ত্যোদয় রেশন গ্ৰাহক পরিবারে একজন করে সদস্য আছে সেগুলোকে যাচাই করতে বলা হয়েছে। লক্ষাদিক অন্ত্যোদয় পরিবার চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে সদস্য মাত্র একজন। অন্ত্যোদয় পরিবারের জন্য মাসে মাথাপিছু ৩৫ কেজি করে খাদ্যশস্য দেওয়া হয়।। যেখানে অন্য রেশন গ্রাহকরা মাসে মাথাপিছু পাঁচ কেজি করে খাদ্যশস্য পান। ফলে একজন সদস্যের অন্ত্যোদয় পরিবার অনেক বেশি পরিমাণে খাদ্যশস্য পেয়ে যাচ্ছে। যেখানে প্রকৃত দরিদ্র অনেক পরিবার যেখানে সদস্য সংখ্যা অনেক বেশি তারা বেশি পরিমাণ খাদ্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।। এই বিষয়টিতে সমতা আনতে চাইছে খাদ্য দপ্তর। এক সদস্যের অন্ত্যোদয় পরিবার হিসেবে যারা আছে তাদের বড় অংশ অন্য কোন ও পরিবারের অংশ বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। এদের মূল পরিবারের সঙ্গে যুক্ত করে দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে অন্ত্যোদয় পরিবারের যে কোটা খালি হবে তাতে নতুন কোন প্রকৃত দরিদ্র পরিবারকে খাদ্যশস্য দেওয়া যাবে। অন্ত্যোদয় রেশন গ্রাহকদের ক্ষেত্রে পরিবার পিছুর বদলে মাথাপিছু খাদ্যশাস্য বরাদ্দ করার বিষয়টিও অবশ্যক কেন্দ্রীয় সরকারের বিবেচনার মধ্যে আছে। আগামী যে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হতে চলেছে তাতে এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে অন্ত্যোদয় পরিবারে সদস্যরা মাথাপিছু সাড়ে ৭ কেজি করে খাদ্যশস্য পেতে পারেন। যেখানে অন্য শ্রেণীর রেশন গ্রাহকরা মাসে মাথাপিছু পাঁচ কেজি করে পান।