চাকরি গিয়েছিল এক দিনে, ফিরল ১০ মাস পরে, নজিরবিহীন নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের
বর্তমান | ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: একদিনের মাথায় চাকরি ছেড়েছিলেন। প্রায় ১০ মাস পর ফের সেই চাকরিতেই ফিরে যাওয়ার পথ খুলে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) ২০১৬ সালের নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় চাকরিহারা এক শিক্ষকের ক্ষেত্রে এই নির্দেশকে নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল হয়। তার ঠিক এক বছর পরে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সুপ্রিম কোর্ট এসএসসির ২০১৬ সালের নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ, গ্রুপ ‘সি’ ও গ্রুপ ‘ডি’—সব প্যানেলই বাতিল করে দেয়। এর ফলে বিপাকে পড়েন হাজার হাজার চাকরিজীবী।এই মামলার অন্যতম আবেদনকারী বর্ধমানের বাসিন্দা সুদীপ চ্যাটার্জি। তিনি আব্দুল মামুন হাই মাদ্রাসায় পলিটিক্যাল সায়েন্সের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে এসএসসির ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়ে নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর মাদ্রাসার চাকরি ছেড়ে দেন। কিন্তু সেখানে তিনি মাত্র একদিনই কাজে যোগ দিয়েছিলেন। গত বছর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসএসসির ওই প্যানেল বাতিল হওয়ায় সুদীপও চাকরিহারা হয়ে পড়েন। তবে শীর্ষ আদালত তার নির্দেশে জানিয়েছিল, যাঁরা অন্য কোনও চাকরি ছেড়ে এসএসসির মাধ্যমে নিযুক্ত হয়েছিলেন, তাঁরা চাইলে পুরনো চাকরিতে ফিরে যেতে পারবেন। সেই নির্দেশ মেনে সুদীপ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের কাছে পুরনো চাকরিতে ফেরার আবেদন জানান। কমিশনের তরফে প্রথমে তাঁর কাছে আগের চাকরির নথিপত্র চাওয়া হয়। নিয়োগপত্র ও সুপারিশপত্র-সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরেও কমিশন জানায়, সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে আলাদা করে প্রমাণ দিতে হবে যে সুদীপ সেখানে শিক্ষকতা করতেন। তা না হলে নতুন করে নিয়োগপত্র দেওয়া যাবে না।এই অবস্থায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সুদীপ। বিচারপতি বিভাস পট্টনায়কের বেঞ্চে মামলার শুনানিতে তাঁর আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী জানান, আবেদনকারীর কাছে বৈধ নিয়োগপত্র ও সুপারিশপত্র রয়েছে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষক হলে তাঁকে পুরনো চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়াই উচিত। আদালতের নির্দেশে আব্দুল মামুন হাই মাদ্রাসার কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, সুদীপ একদিন কাজে যোগ দিয়েছিলেন এবং মাদ্রাসা আইন অনুযায়ী তিনি শিক্ষক হিসেবেই কর্মরত ছিলেন। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত নির্দেশ দেয়, সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে সুদীপকে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে। শুনানিতে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আদালতের কাছে স্বীকার করেছে, খুব শীঘ্রই সুদীপ চ্যাটার্জির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হবে। আইনজীবী মহলের মতে, একদিনের চাকরির ভিত্তিতেও পুরনো কর্মস্থলে ফেরার এই নির্দেশ ভবিষ্যতে বহু চাকরিহারা শিক্ষকের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।