প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের রাতে নরেন্দ্রপুর থানার নাজিরাবাদ এলাকার গুদামে লাগা আগুন ২৪ ঘণ্টা পরেও নেভেনি। দমকল সূত্রে খবর, একাধিক জায়গায় রয়েছে পকেট ফায়ার। মঙ্গলবার সকালেও ধ্বংসস্তূপ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় বলে খবর।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে পুলিশ। নিখোঁজ ও মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কায় উৎকণ্ঠা চরমে। ভস্মীভূত গোডাউন ও অনলাইন ডেলিভারির দোকানে থেকে উদ্ধার হয়েছে কিছু পোড়া দেহাংশ। কাঠামোর নীচে আরও কেউ চাপা পড়েছেন কি না তাও খতিয়ে দেখা হয়েছে। এই ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের দেহের ময়নাতদন্ত মঙ্গলবারই হবে। সরকারি মতে, এখনও পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা তিন।
স্বজনকে হারিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও সদুত্তর মিলছে না বলে দাবি অনেকেরই পরিবারের সদস্যের। শুধু পূর্ব মেদিনীপুর জেলারই ১৩ জন বাসিন্দা নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। প্রিয়জনের খোঁজে রাতভর ঘটনাস্থলেই অপেক্ষায় রয়েছেন পরিজনেরা। কারও ভাইয়ের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না তো কেউ এসেছেন স্বামীর খোঁজ। রবিবার সন্ধেয় শেষ যোগাযোগ। তার পর থেকে ফোন করলেও আর কোনও উত্তর নেই বলে দাবি পরিবারের মানুষের।
নরেন্দ্রপুর থানায় এখনও পর্যন্ত আট জনের নামে মিসিং ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশের আশঙ্কা, নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে—যা ৩০ ছাড়াতে পারে বলে দাবি বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দার।
রাতে ঘটনাস্থলে যান সোনারপুরের বিডিও শিঞ্জিনী সেনগুপ্ত, বারুইপুরের মহকুমাশাসক চিত্রদীপ সেন এবং ময়নার বিধায়ক অশোক দিন্দা। তাঁর এলাকায় বসবাসকারী একাধিক ব্যক্তিকে নিয়ে গভীর রাতে নরেন্দ্রপুর থানায় মিসিং ডায়েরি দায়ের করা হয়।
জানা গিয়েছে, ওই থার্মোকল কারখানায় বিভিন্ন ডেকরেটার্স সংস্থার কাজ হতো। থার্মোকল দিয়ে বিভিন্ন নকশা, অনুষ্ঠান বাড়ির গেট-সহ বিভিন্ন কাজকর্ম চলত। কারখানার ভিতরেই ডেকরেটার্স সংস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রচুর কর্মী ছিলেন। আগুনের হাত থেকে বেঁচে বের হতে পারেননি অনেকেই। সেই আশঙ্কা থেকেই ভস্মীভূত গুদামে আরও দেহ চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্বজনহারার হাহাকার, নিখোঁজদের নিয়ে উৎকণ্ঠা আর পোড়া গন্ধে ভারী এলাকার বাতাস।