• মেট্রো সংযোগে ভিড়ে নজির, স্টলের ছোট মাপের অভিযোগ বইমেলায়
    আনন্দবাজার | ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • হাওড়া-সল্টলেক পথে মেট্রো সংযোগ চালু হওয়ার ফলে যা আঁচ করা গিয়েছিল, তা-ই ঘটতে চলেছে। বইমেলা শুরুর পরে প্রথম চার দিনে বা বলা ভাল প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের দীর্ঘ সপ্তাহান্তে ভিড়ের বহর সল্টলেকে নজির সৃষ্টি করল। সোমবার, প্রজাতন্ত্র দিবসে সন্ধ‍্যা ছ’টাতেই বিভিন্ন গেটে জনসমাগম জরিপ করে পুলিশের হিসাব পৌঁছয় গিল্ড-কর্তাদের কাছে। প্রকাশক এবং বই বিক্রেতা গিল্ডের তরফে ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় বললেন, “রবিবার সন্ধ‍্যা ৬টাতেই ভিড় চার লক্ষের কাছাকাছি। লক্ষণীয় ভাবে, তরুণ বয়সিরা দলে ভারী।”

    শনিবার, সরস্বতী পুজোর পরের দিনও সাড়ে তিন লক্ষ লোক হযেছিল। এর পরে শনি-রবি অন্তত চার লক্ষ করে ভিড় হয়েছে। গত বছর বইমেলার মাঝের একটি রবিবারে সাড়ে তিন লক্ষ লোক হয়। এ বার বইমেলা শুরুর পরেই যা প্রবণতা, তাতে ২০২৫-কে কার্যত উড়িয়ে দিতে পারে ২০২৬-এর ভিড়। প্রশ্ন উঠছে, ভিড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কেনাকাটির কী বহর? গিল্ড সভাপতি সুধাংশুশেখর দে-র ধারণা, ‘‘গত বারের থেকে ১০ শতাংশ বেশি ভিড় হবেই।’’ সোমবার প্রকাশনা জগতের কিংবদন্তী দিলীপকুমার গুপ্তের নামে পুরস্কার দেওয়া হয় চিত্রশিল্পী, নাট্যকর্মী, প্রকাশক, লেখকদের। সমরেশ বসুর পুত্র, সাহিত্যিক নবকুমার বসু এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পুত্র, কবি সৌগত চট্টোপাধ্যায় ছিলেন। সলিল চৌধুরীর শতবর্ষে বইমেলার সভাঘরে একটি অনুষ্ঠানেও ভিড় ছিল।

    বইমেলায় ভিড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে যানজটও। অটোর বাড়তি ভাড়া চাওয়া নিয়ে বইমেলা কর্তৃপক্ষ পুলিশকে সজাগ করেছেন। আশঙ্কা রয়েছে পার্কিং লটে বিনা রসিদে টাকা হাতিয়ে দুর্নীতির বিষয়ে। বইমেলা ও পুরসভার মধ‍্যে সমন্বয়কারী নোডাল অফিসার বা পুর আধিকারিক উজ্জ্বল করণ বলছেন, “পার্কিংয়ের বিষয়টি দরপত্রপ্রাপ্ত এজেন্সি দেখে। পার্কিং পরিকাঠামো পুলিশি পরামর্শে ঠিক করা হয়।” সুধাংশুশেখর দে বলেন, “অটো, টোটোর ভাড়া বা পার্কিং-ফি সংক্রান্ত শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে অনুরোধ করেছি।” যদিও বিধাননগরে বইমেলাকে ঘিরে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি বলেই দাবি করেছে তৃণমূল পরিচালিত অটো ইউনিয়ন। করুণাময়ী মোড় থেকে উল্টোডাঙা বা ই এম বাইপাস পর্যন্ত ভাড়া একই। বরং চালকদের একাংশের দাবি, মেট্রো ও অতিরিক্ত বাস পরিষেবায় অটোয় যাত্রীর চাপ কম। তবে, কোনও ‘ফ্লাইং’ অটো বাড়তি ভাড়া নিলে ইউনিয়নের করণীয় কিছু থাকে না।

    এ দিকে, বইমেলায় স্টলের পরিসর ভাগাভাগি নিয়ে বই বিক্রেতাদের একাংশ ক্ষুব্ধ। ন’নম্বর গেটে লিটল ম‍্যাগাজিন তল্লাটের দিকে ৫০ বর্গফুটের স্টলগুলিতে টেবিল ঢুকছে না। উদার আকাশ-এর ফারুখ আহমেদ বলেন, “নামেই ৫০ ফুট। মেরেকেটে ৪০ ফুট হবে না। আর স্টলের দরজার এক দিকে গ্রিল, অন‍্য দিকে তাক বসানো। টেবিল বাইরে রাখতে হচ্ছে। পুলিশ ঝামেলা করছে। পুলিশকে বুঝিয়ে কোনও মতে আছি!” গিল্ড-কর্তাদের তরফে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)