• শীতেও মরশুমি আনাজে তেমন সুরাহা মিলল না ক্রেতাদের
    বর্তমান | ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: শীত প্রায় শেষের পথে। বাজারে এখনও মরশুমি আনাজের রমরমা। কিন্তু এবার কি শীতের সবজির দামে বড় রকমের কোনও স্বস্তি পেলেন সাধারণ মানুষ? ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা বলছে, অন্যান্য বছরে শীতের আনাজের দামে যতটা লাগাম থাকে, এবার তা ছিল না। শেষ গ্রীষ্ম এবং বর্ষাকালে সবজির আগুন দামে নাভিশ্বাস উঠেছিল সাধারণ মানুষের। বাজারে জোগানের কোনও খামতি না থাকলেও, অতি চড়া দামে কিনতে হয়েছে পটল, ঝিঙে, বরবটি বা চিচিংগের মতো গ্রীষ্ম প্রধান আনাজ।

    আশা ছিল, শীতকালে হয়তো কিছুটা সুরাহা মিলবে দামে। কিন্তু তা খুব একটা সম্ভব হয়নি। কলকাতা ও শহরতলির বেশিরভাগ ক্রেতার অভিজ্ঞতাই বলছে, এখনও বেশিরভাগ মরশুমি আনাজের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। এই তালিকায় আছে বিট, গাজর, ক্যাপসিকাম, পেঁয়াজকলি, মটরশুঁটি, কুমড়ো, সিম, ওলকপি, শালগম প্রভৃতি। বেগুনের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে ঘোরাঘুরি করছে বিভিন্ন বাজারে। ফুলকপির দাম মাসখানেক আগে কিছুটা সস্তা হলেও, বর্তমানে তার দর আবার বেশ চড়েছে, বলছে ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা। তা এখন পিস প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। কচি পালং শাক বাজারে প্রায় অধরা থাকলেও, যেটুকু পালং মিলছে, তার দর কেজি প্রতি ৪০ টাকা। এবার শীতে ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে টোম্যাটোর দাম। হাড়কাঁপানো শীতেও তার দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা ছিল। শীতের মরশুমে এত চড়া দরে বাঙালি কবে টেম্যাটো কিনে খেয়েছে, তা মনে করতে পারছেন না প্রায় কেউই। প্রতি বছর নতুন আলু বাজারে এলে, দাম কিছুটা কমে। এবারও আলুর দামে এখনও পর্যন্ত তেমন বেগ পেতে হয়নি তাঁদের। কিছুটা নাগালে আছে পিয়াজের দরও। তবে ওইটুকুই। মাছ মাংসের দাম মধ্যবিত্তের নাগালে নেই বহুদিন। সেই তালিকায় নাম লিখিয়েছে পোলট্রির ডিমও। তাই বাজারে গিয়ে শুধুমাত্র শাকসবজির দিকে নজর দিলেও, আশাহত হয়েছেন সাধারণ ক্রেতা।
  • Link to this news (বর্তমান)