নিজের বিয়ের দিন সকালে বরের সাজেই এসআইআরের শুনানিকেন্দ্রে হাজির হলেন আনোয়ার হোসেন নামের এক যুবক। তাঁর বিয়ে ঠিক ছিল হাওড়ায়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তরফে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির নোটিশ পাওয়ায় বিয়ের মণ্ডপে যাওয়ার আগে বাধ্য হয়েই তিনি পৌঁছে যান ষাটমনিষা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। যেখানে অস্থায়ীভাবে শুনানিকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।
শুধু আনোয়ার হোসেনই নন, তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বরযাত্রীরাও। জানা গেছে, মোট ৩৮ জন বরযাত্রীকেও একইভাবে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। ফলে বিয়ের আনন্দের বদলে সকালের বড় একটা সময় কেটেছে লাইনে দাঁড়িয়ে নথিপত্র জমা দেওয়ার মধ্যেই। অনেকেই পরেছিলেন বিয়ের পোশাক। কারও গায়ে পাঞ্জাবি, কারও মাথায় টোপর—এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ঘিরে এলাকায় কৌতূহল ও ক্ষোভ দুটোই ছড়ায়।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো নোটিশের কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, নামের বানান ভুল ও তথাকথিত “আন ম্যাপিং” সমস্যা। তবে শুনানিতে আসা ভোটারদের দাবি, এ ধরনের ভুলের জন্য এত বড় সংখ্যক মানুষকে একসঙ্গে ডেকে হয়রানি করা ঠিক নয়।
বর ও বরযাত্রীরা অভিযোগ করেন, বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অনুষ্ঠানের দিনেও তাঁদের এই প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা অত্যন্ত মানসিক চাপে ফেলেছে পরিবারকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বুথে মোট প্রায় ১১০০ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনের কাছেই এসআইআর সংক্রান্ত নোটিশ পৌঁছেছে। ফলে সকাল থেকেই ষাটমনিষা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে মহিলা—অনেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন নিজের নাম ঠিক রাখার লড়াইয়ে।
ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সাধারণ ভোটারদের একটাই কথা—ভোটার তালিকায় নাম ঠিক রাখা জরুরি, কিন্তু সেই প্রক্রিয়া যেন মানবিক হয়। আর আনোয়ার হোসেনের পরিবার? শুনানি সেরে তড়িঘড়ি রওনা দিয়েছেন হাওড়ার পথে—যেন দেরি না হয় জীবনের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠানে।