• চিকেন পক্স নিয়েই শুনানিতে হাজির পুলিশ আধিকারিক
    আজকাল | ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • মিল্টন সেন, হুগলি: অমানবিক দৃশ্য হুগলির রিষড়ায়। সর্বাঙ্গ জ্বরে পুর যাচ্ছে। পক্সে আক্রান্ত। সারা শরীরে ব্যথা। তবুও এসআইআর শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে পুলিশ আধিকারিক। বললেন, এভাবেও তাঁকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। নাহলে হয়ত দেশে থাকতে দেবে না। 

    চলছে এসআইআর শুনানি। শুরু থেকেই একের পর এক অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছে নির্বাচন কমিশন। কখনও অমর্ত্য সেনের মত ব্যাক্তিত্বকে শুনানিতে ডাকা। বাদ যাননি নেতা অভিনেতা সরকারি কর্মচারীরা। অসুস্থ প্রবীণ মানুষদেরও শুনানি লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। সমালোচনা হয়েছে এসআইআর নিয়ে কমিশনের তাড়াহুড়ো নিয়ে। এবার শুনানিতে ডাকা হল হুগলির এক পুলিশ আধিকারিককে। যিনি গত ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে পুলিশ সার্ভিসে আছেন। বর্তমানে চুঁচুড়া আদালতের জিআরও অফিসে কর্মরত। সেই আজিজুর রহমানকে মঙ্গলবার শুনানিতে ডাকা হয়েছে। 

    পুলিশ আধিকারিক চিকেন পক্সে আক্রান্ত। রিষড়া খটির বাজারে তার বাড়ি। চিকিৎসক তাকে বাড়িতে রেস্ট নিতে বলেছেন। তাও শ্রীরামপুরের ইউনিয়ন হাইস্কুলে শুনানির লাইনে দেখা গেলো তাঁকে। এদিন পুলিশ অফিসার বলেন, ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে পুলিশে চাকরি করছেন। গত ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতে তাঁর নাম আছে। তার আগেও আছে। পক্স হওয়ায় শরীর অসুস্থ তা সত্ত্বেও তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। আসতে হয়েছে শুনানিতে। নাহলে হয়ত দেশ ছাড়া করবে। নির্বাচন কমিশন বলেছে তাই শুনানিতে আসতে হয়েছে, এই অবস্থাতেও।

    প্রসঙ্গত, হুগলিতে  এখন চলছে এসআইআর শুনানি। কয়েকদিন আগেই মগরায় হুইলচেয়ারে বসে শুনানিতে হাজির হতে দেখা যায় সপ্তগ্রাম পঞ্চায়েতের ছোট খেজুরিয়া এলাকার বাসিন্দা বিশেষভাবে সক্ষম কুমকুম হরিজনকে। এদিন তাঁর শুনানির ডাক পড়েছিব মগরা ব্লক অফিসে। কুমকুমের মা তাঁকে হুইলচেয়ারে করে নিয়ে আসেন শুনানিকেন্দ্রে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়ানোর পরে বিএলও অনিতা দত্ত কর্মরত অফিসারকে অনুরোধ করেন কুমকুমের শুনানি তাড়াতাড়ি করার জন্য। বিএলওর অনুরোধ শুনে কিছুক্ষণ পরে তাঁর শুনানি সম্পন্ন করে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

    এই বিষয়ে হুগলি জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নির্মাল্য চক্রবর্তী বলেন, “এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষের হয়রানি ক্রমশ বেড়েই চলেছে। কেন্দ্রে একটা অমানবিক সরকার চলছে। এরা মানুষের সাথে-পাশে থাকে না। বয়স্ক মানুষ হোক বা প্রতিবন্ধী সকলকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। সারাদিন লাইনে দাড়িয়ে আবার অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন কিন্তু তাতেও টনক নড়ছে না নির্বাচন কমিশনের।”

     
  • Link to this news (আজকাল)